জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
মাখন দিয়ে রুটি খেয়েও যেভাবে নির্মেদ থাকেন ‘কারিনা’

মাখন দিয়ে রুটি খেয়েও যেভাবে নির্মেদ থাকেন ‘কারিনা’

শেয়ার করুন

বিনোদন প্রতিবেদক:
স্লিম থাকতে আমরা কতো কিনা করি। অনেক পছন্দের খাবারও খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেই। কিন্তু বলিউডের সুনামখ্যাত অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান করেন ঠিক ওয়ের উল্টোটা।
নিউট্রিশনিস্ট রুজুতা দিওয়েকর জানিয়েছেন, এই ফাস্ট এবং ইনস্ট্যান্ট জীবন প্রণালী হল আমাদের স্ফীত মধ্যপ্রদেশের জননী! কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়া সাইট ইনস্টাগ্রামে নিজের ক্লায়েন্ট কারিনা কাপুর খানের একটি ছবি পোস্ট করেন রুজুতা। ছবিতে কারিনা কাপুর খানকে দেখা যাচ্ছে বেশ আয়েশ করে পাঞ্জাবি পদ্ধতিতে বানানো মক্কি দি রোটি এবং সর্ষের শাক খাচ্ছেন তাও আবার তাজা মাখন দিয়ে! এসব খেয়েও এত ছিপছিপে ও আকর্ষক কেমন করে থাকেন কারিনা! রুজুতা জানিয়েছেন গোড়াতেই রয়েছে গলদ, দেশীয় এবং মরসুমি খাবারকে খাদ্যতালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা এবং সময় বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টাই শরীরকে করে তুলছে হাজার রোগের বাসা, সঙ্গে বাড়ছে ওজন।কারিনা কাপুরের ছবি পোস্ট করে রুজুতা লিখেছেন, “দেশীয় খাবার তারিয়ে তারিয়ে খাওয়ার আনন্দই আলাদা। প্রত্যেকটি প্রদেশে মরসুমি ফলন ও চিরায়ত রন্ধন পদ্ধতি ব্যবহার করে কিছু বিশেষ সুস্বাদু আহার তৈরি হয়। আমাদের এমন ডায়েট মেনে চলা উচিত যেগুলো এই সব খাবার উপভোগ করতে উৎসাহ দেয় এবং যে ডায়েট এই সব তাজা, সুস্বাদু খাবার পরিহার করতে বলে সেগুলোকে এড়িয়ে চলাই বুদ্ধির কাজ।…তাই কারিনা কাপুরকে দেখে শিখুন এবং আপনারাও মাখন, রুটি, শাক খেয়ে দেখুন ডিনারে! তবে, কারিনা মাখন, রুটি, শাক খাচ্ছে কারণ ও এখন পাঞ্জাবে আছে এবং ওই অঞ্চলে এটাই এখনকার মরসুমি খাবার। আপনারাও আপনাদের বাসস্থান অনুযায়ী মরসুমি খাবার বেছে নিন যা দেশীয় পদ্ধতিতে বানানো”।রুজুতা জানিয়েছেন যে সকালে উঠেই আমরা এক কাপ চা খাই যেটা খিদে চেপে দেয়, তার সঙ্গে বিস্কুট খাই যাতে থাকে বিপুল পরিমাণে প্রিজারভেটিভ এবং মিষ্টি। সকালের প্রথম খাবার কখনই এমনটা হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। আমাদের শরীর সারারাত মেরামতির কাজ করে, সারিয়ে তোলে সেল ড্যামেজ। তাই, সকালে শরীরকে দিতে হবে সঠিক পুষ্টি। ঘুম থেকে ওঠার ১০ মিনিটের মধ্যে একটি কলা বা অন্য ফল বা একমুঠো কিশমিশ বা কাঠবাদাম খেয়ে দিন শুরু করুন। প্রত্যেক দুই ঘন্টা অন্তর অল্প করে খাবার অভ্যাস করুন। বাদ যাক চিপস, চকলেট, বিস্কুট, প্যাকেট বন্দি ওটস, কর্ণফ্লেক্স। তার বদলে সুজি, চিঁড়া ফিরে আসুক প্রাতরাশের পাতে।রুজুতা এটাও বিশ্বাস করেন যে স্থানীয়, তাজা এবং চিরায়ত পদ্ধতিতে বানানো খাবার আমাদের মোটা করেনা, মোটা করে দেয় ঠিক সময়ে না খেয়ে, পেটে প্রচন্ড খিদের আগুন নিয়ে পিৎজা, বার্গারের ওপর হামলে পড়া।অবশ্য রুজুতা আরেকটি ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে খাদ্যাভ্যাস পাল্টানোর সঙ্গে সঙ্গে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট কসরত করতেই হবে। সাঁতার কাটা, খেলাধুলা, যোগব্যায়াম, ওজন নিয়ে ব্যায়াম বা ওয়েট ট্রেনিং-এসবে অর্থ ব্যয় করাটা দেওয়াল জোরা এলইডি টিভি কেনার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেছেন তিনি।আরেকটা প্রচলিত ডায়েট ট্রেন্ডের তীব্র নিন্দা করেছেন রুজুতা। স্থানীয় ফল যেমন- কলা, পেয়ারা, সীতাফল বা আতা, পানিফল, কুল, আমড়া এসবের বদলে ফিগার সচেতন জেনারেশন ঝুঁকেছে স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ফিগ, কিউই এসবের দিকে। তার মতে স্থানীয় খাবারে ওই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের প্রয়োজনীয় পৌষ্টিক পদার্থ থাকে যেটা আদতে রোগা হতে সাহায্য করে।শীতে সুস্থ ও ছিপছিপে থাকার জন্য রুজুতা বলেছেন খাদ্যতালিকায় রুট ভেজিটেবলস যেমন বীট, গাজর ইত্যাদি রাখতে। সঙ্গে সপ্তাহে বেশ কয়েকবার খেতে হবে ভুট্টার আটা এবং জোয়ার, বাজরা, রাগি।সুস্বাস্থ্যকেই নির্মেদ থাকার সেরা ঘরোয়া পদ্ধতি বলে চিহ্নিত করেছেন রুজুতা। কী, আপনিও তো জেনে গেলেন ফিট থাকার সহজ ফান্ডা! আর দেরী কেন? ছিপছিপে চেহারা ফিরে পাওয়ার প্রয়াস তবে শুরু করা যাক, তবে সুস্বাদু, মৌসুমি খাবার খেতে, খেতে!

Print Friendly, PDF & Email

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com