জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী প্রিয়ার নালিশের পিছনে এসকে সিনহার হাত :

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী প্রিয়ার নালিশের পিছনে এসকে সিনহার হাত :

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে অভিযোগকারী প্রিয়া সাহার পিছনে সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহার হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘এসকে সিনহার দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ সন্দেহের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে প্রিয়া সাহার নালিশের পেছনে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার হাত থাকতে পারে।

প্রিয়া সাহার সঙ্গে এসকে সিনহার যোগাযোগের আশঙ্কা প্রকাশ করে মন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এসকে সিনহা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছেন। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে হেয় করার ষড়যন্ত্র চলছে।

এসকে সিনহার মতো দুর্নীতিবাজ প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশে আর কখনো আসেনি বলে মন্তব্য করে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘তার বিচার না হলে বাংলাদেশের কলঙ্ক মোচন হবে না।’

এদিকে দেশ ছাড়ার প্রায় দুই বছর পর কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। গত ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় প্রবেশ করে স্ত্রীসহ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন তিনি।

অন্যদিকে গত ১৬-১৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আয়োজনে দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের দ্বিতীয় দিন অন্যন্যদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা।

সাক্ষাতে ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রসঙ্গে নালিশ করে প্রিয়া সাহা বলেন, বাংলাদেশ থেকে ৩৭ মিলিয়ন অর্থাৎ ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ‘ডিসঅ্যাপিয়ার্ড’ বা গুম হয়েছে। শুধু তাই নয় তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও করেন। আর এসব ঘটনায় মুসলিম মৌলবাদীরা জড়িত বলে দাবি করেন প্রিয়া।

তার এই বক্তব্যে দেশে তুমুল সমালোচনার ঝড় উঠে। রাজনৈতিক মহলে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার আখ্যাও দেওয়া হয়। প্রিয়া সাহা যুক্তরাষ্ট্রে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বলে প্রমাণিতও হয়। তার এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, প্রিয়া সাহা তার নিজ বাড়িতে নিজেই আগুন দিয়েছেন এবং এখন ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তুলেছেন।

এসব সমালোচনার মধ্যেই প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পরে আদালত সেটিকে খারিজ করেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রিয়া সাহাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু না করতে নির্দেশ দেন।

প্রিয়া সাহার বিষয়ে তার সংগঠন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত জানান, প্রিয়া সাহা সংগঠনের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক এটি সত্যি, তবে সাংগঠনিক কোনো সিদ্ধান্ত বা দায়িত্ব নিয়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাননি বা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। যা করেছেন নিজের দায়িত্ব নিয়ে করেছেন। এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি আরও বলেন, প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ (৩৭ মিলিয়ন) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোক ‘ডিজএপিয়ার’ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন। ‘ডিজএপিয়ার’ বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এটি যদি স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের গুম বা নিখোঁজ অর্থে বলে থাকেন তবে তা অসত্য এবং আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তবে সরকারি পরিসংখ্যানের আলোকেই তিনি এই চিত্র তুলে ধরেছেন বলে পরে গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান প্রিয়া। আইআরআইয়ের নিমন্ত্রণে তিনি ওয়াশিংটন যান বলেও দাবি করেন। প্রিয়া সাহার দাবির প্রেক্ষাপটে আইআরআই জানিয়েছে, তারা প্রিয়া সাহার স্পন্সর ছিল না। এ বার্তা-সংক্রান্ত চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও পাঠিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক ‘মিনিস্ট্রিয়াল টু অ্যাডভান্স রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ – এ প্রিয়া সাহাকে আইআরআই আমন্ত্রণ জানিয়েছিল মর্মে তিনি (প্রিয়া সাহা) যে বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রতিষ্ঠানটির নজরে এসেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে স্পষ্ট করে জানাতে চায়, (আইআরআই) প্রিয়া সাহার ওয়াশিংটন সফরের স্পন্সর করেনি।

প্রিয়া সাহার সঙ্গে আইআরআই কোনো কাজ করে না বা কোনোভাবে যুক্ত নয় বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রিয়া সাহার বক্তব্য ‘অসত্য’ বলেও মনে করে আরআরআই। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, আইআরআই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ককে সবসময় গুরুত্ব দেয়। তারা বাংলাদেশে সুশাসন ও নাগরিককেন্দ্রিক রাজনীতির প্রসারে কাজ করে যেতে চায়।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আইআরআই নয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আমন্ত্রণে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন প্রিয়া সাহা।

এদিকে প্রিয়া সাহার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। যদিও তাদের মিছিলটি পল্টন মোড়ে আটকে দেয় পুলিশ। তবে ভারতীয় দূতাবাসে স্মারক লিপি প্রদান করবে বলে তারা জানায়।

এ ঘটনার পর প্রিয়া সাহার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করে দেশটির ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ এবং প্রিয়া সাহার নিরাপত্তার দাবিতে কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে এই বিক্ষোভ করেন তারা।

কলকাতার স্থানীয় একটি গণমাধ্যম জানায়, সম্প্রতি মোদি সরকারের মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে একটি দল ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে গণমিছিল করেছিল। ওই সমাবেশ থেকে প্রিয়া সাহাকে অপমান করা হয়েছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার কলকাতার পার্ক সার্কাসে বঙ্গবন্ধু সরণিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিজেপির ওই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে পাল্টা কার্যক্রম বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও রাজ্য বিজেপি এটিকে পাল্টা কার্যক্রম মানতে নারাজ। তাদের দাবি, প্রিয়া সাহা নামের এক হিন্দু নারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের হিন্দুদের দূরাবস্থার কথা তুলে ধরেছেন।সে কারণেই বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা চাইছেন তারা।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com