জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
“শো অফ” নিয়ে কিছু কথা

“শো অফ” নিয়ে কিছু কথা

জাবেদুর রহমানঃ আজকাল “শো অফ” শব্দটাকে এমন ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা একদিকে মানুষের চোখে ভয়ংকর ভাবে পরিণত হচ্ছে, অন্যদিকে ফ্যাশন বা লোক দেখানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রথমে বলে রাখি “শো অফ” শব্দের অর্থ জাহির করা,প্রদর্শন করা ও সদম্ভে দেখানো। পরিভাষা বলা যায় যে, “শো অফ” শব্দটি দ্বারা অহংকারী ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে। আজকাল প্রায়ই শুনা যায় “শো অফ” শব্দটা যা সবার কন্ঠস্বরের মধ্যে। কিছু মানুষ উচ্চারণ করে খারাপ দৃষ্টিভঙ্গিতে, আবার কিছু মানুষ শব্দটা উচ্চারণ করে ভালো দৃষ্টিভঙ্গিতে। আবার কেউ কেউ শব্দটা উচ্চারণ করে ফ্যাশনের ভঙ্গিতে। যাইহোক, চলে আসি মূল কথায়, “শো অফ” শব্দটাকে আমি দুই ভাগে বিভক্ত করেছি। যেমন, (১)নেগেটিভ (২)পজিটিভ

“শো অফ” শব্দের পজিটিভ দিকঃ
এখানে বন্ধু অথবা তরুণ প্রজন্মর মাধ্যমে লেখাটি শুরু করতে চাই। যখন আমরা ভালো কোনো (রেস্টুরেন্টে) যাই বন্ধুদের সাথে ভালো খাবার খাওয়ার জন্য,ভালো সময় কাটানোর জন্য। বিশেষ করে সুন্দর কিছু ছবি তুলার জন্য যাতে ফেইসবুকে আপলোড দিতে পারি। আর কেউ কেউ ভালো রেসিপি তৈরি করে সবাইকে দেখানোর জন্য, যেটা মজা হোক বা না হোক তাতে কিছু যায় আসে না কারণ একটাই যাতে ফেইসবুক,ইন্সটাগ্রাম,অথবা ইউটিউবে আপ্লোড দিতে পারি। তাছাড়া, সিগারেটও আজকাল “শো অফ” তথা ফ্যাশনে পরিণত। কিছু যুবসমাজ আজ সিগারেট খাওয়াকেও ফ্যাশন মনে করে। আমরা জানি যে, মানুষ মানুষকে অনুসরণ করে। মানুষ মানুষের কাছে মূল্যবোধ অর্জন করে। আর ইহা খুবই স্বাভাবিক। যখন আমরা রেস্টুরেন্টের তুলা ছবি ফেইসবুক,ইন্সটাগ্রাম,অথবা ইউটিউবে আপলোড দেই, ঠিক তখনই আপনার মত আরেকজন বন্ধুরা চিন্তা করে আমরা কি অমুক-তমুকদের মত রেস্টুরেন্টে গিয়ে ছবি তুলতে পারিনা, তাদের মত ফেইসবুক,ইন্সটাগ্রাম,অথবা ইউটিউবে আপলোড দিতে পারি না।

“শো অফ” শব্দের পজিটিভ দিকঃ
আজকাল তরুণ প্রজন্ম ও অভিভাবক সমাজক জাগ্রত হয়েছে। মানুষের কল্যাণে তরুণ-তরুণীরা কাজ করছে। কিছু তরুণ-তরুণীরা সেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে গরীব অসহায় মানুষদের পাশে দাড়িঁয়েছে বস্ত্র ও খাবার বিতরণের মাধ্যমে। আবার কিছু যুবক রক্ত দান করতে এগিয়ে আসছে। আর কিছু ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এগিয়ে এসেছে গরীব শিক্ষার্থীদেরকে অর্থ দিয়ে লেখাপড়ার অনুপ্রেরণা যোগাতে। এখন বলছি, এইগুলো ছবি ফেইসবুক,ইন্সটাগ্রাম,অথবা ইউটিউবে আপলোড করা যায়না, তাদেরকে “শো অফ” হিসাবে ব্যবহার করা যায়না ,তাদের ভালো কাজগুলো ভাইরাল করা যায়না। যখন, একজন যুবক আপনার মা কিংবা বোনকে রক্ত দান করে, তখন এই ছবিগুলো ফেইসবুক,ইন্সটাগ্রাম,অথবা ইউটিউবে আপলোড দেন। দেখবেন, অন্য এক তরুণ কিংবা তরুণী ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হবে এবং রক্ত দান করতে এগিয়ে আসবে।এগুলোর মাধ্যমে সমাজ বদলে যেতে পারে, সুন্দর হয়ে যেতে পারে এই সোনার বাংলাদেশ।
পাশাপাশি, “শো অফ” শব্দটার মধ্যে থাকবে এক অফুরন্ত ভালোবাসা। যেখানে “শো অফ” শব্দের নেগেটিভ দিক হারিয়ে যাবে চিরতরে, আর খুঁজে পাওয়া যাবে না কারো মুখে।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com