জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
উত্তরের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, মার্কিন-দক্ষিণ যুদ্ধ মহড়া উত্তাল কোরিয়া :

উত্তরের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, মার্কিন-দক্ষিণ যুদ্ধ মহড়া উত্তাল কোরিয়া :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অন্ত দুটি স্বল্প-পরিসরের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, পিয়ংইয়ং দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতিকে ‘নির্লজ্জ’ বলে অভিহিত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ দক্ষিণ কোরিয়ার ভুল’ বর্ণনা করে আন্তঃ-কোরিয়ার আর কোন আলোচনাকে প্রত্যাখান করেন। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি মুন জা-ইন-এর ভাষণের জবাবে উত্তর কোরিয়া একটি বিবৃতি জারি করেছে। উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়াগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। গত সপ্তাহের এই মহড়াকে যুদ্ধের মহড়া বলে অভিহিত করে কিম। শুক্রবার ভোরে উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূল থেকে সমুদ্রের দিকে দুটি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। এক মাসেরও কম সময়ে এমন ষষ্ঠ পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন জুনের বৈঠকের সময় পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই এক ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে দেশটি। শুক্রবার সকালে উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূলের সমুদ্রের দিকে আরও দুটি স্বল্প-পরিসরের প্রজেক্টেল নিক্ষেপ করেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ চিফস অফ স্টাফ (জেসিএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ জানিয়েছে, দুটি ‘অজ্ঞাতনামা প্রজেক্টোইলস’ স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যা ২৩০ কিলোমিটার (১৪০ মাইল) ভ্রমণ করে ৩০ কিলোমিটার (১৮ মাইল) উচ্চতায় পৌঁছেছিল। ছয় দিন আগেও উত্তর কোরিয়া জাপান/পূর্ব সাগরে দুটি স্বল্প পরিসরের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।

তবে, সর্বশেষ প্রজেক্টাইল পরীক্ষায় কোনও আসন্ন নিরাপত্তা হুমকি দেখছে না জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন এক কর্মকর্তা জানায়, প্রাথমিক তথ্যে উত্তর কোরিয়া দ্বারা কমপক্ষে একটি প্রজেক্টাইল চালানো হয়েছিল বলে দেখা যাচ্ছে। এই পরীক্ষাকে গত সপ্তাহগুলোর স্বল্প পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর অনুরূপ বলে মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সাথে পরামর্শ করছিল বলে আরেক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন।

সিওলস্থ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন যে, সর্বশেষ পরীক্ষাটি ব্যালিস্টিক প্রযুক্তির সাথে জড়িত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তারা উত্তর কোরিয়ার পরীক্ষাটির বিশদ বিশ্লেষণ নিয়ে তদন্ত করছে। গত ১০ই আগস্ট উত্তর একই ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র চালিয়েছিল বলে সিওল জানায়।

পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়ার আলোচনা পুনরায় চালু করাকে জটিল করে তুলবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে ৩০ শে জুনের বৈঠকে আলোচনা পুনর্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এই আলোচনা স্থগিত রয়েছে।

শুক্রবার সকালে পিয়ংইয়ং উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি মুনের একটি প্রতিশ্রতি প্রত্যাখান করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়। বৃহস্পতিবার জাপানের কাছ থেকে কোরিয়ার স্বাধীনতা দিবস উৎযাপন অনুষ্ঠানে মুন ২০৪৫ সালের মধ্যে দুই কোরিয়াকে একীকরণের প্রতিশ্রুতি দেন। উত্তর কোরিয়ার একজন মুখপাত্র বলেন, ‘উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে সংলাপের গতি হ্রাস এবং গত বছর দুই নেতার মধ্যে ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অচলাবস্থা সম্পূর্ণরূপে দক্ষিণের দায়।

অজ্ঞাতপরিচয়ের মুখপাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়ার ব্যাপারে উত্তরের প্রতি সিওলের শত্রুতামূলোক আচরণ বলে বারবার সমালোচনা করেছে। উত্তর কোরিয়ার শান্তিমূলক পুনর্মিলন কমিটির জন্য উত্তরের মুখপাত্র সরকারি সংবাদসংস্থা কেসিএনএ-এর মাধ্যমে জানায়, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের আর কোনও কথা বলার নেই বা তাদের সাথে ফের বসারও কোন ইচ্ছা নেই।’

কমিটি দক্ষিণের সাথে সম্পর্ক পরিচালনা করে। প্রতিদ্বন্দ্বী কোরিয়ারা 1950-53 কোরিয়ান যুদ্ধের পরে শান্তিচুক্তির পরিবর্তে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পরে প্রযুক্তিগতভাবে যুদ্ধে রয়েছে।

মুন সম্পর্কে উত্তর কোরিয়ার মন্তব্যকে দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয় আন্তঃ-কোরিয়ার চুক্তি এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য অসহায়ক এবং ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’ বলে অভিহিত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে আলোচনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সুরক্ষা কাউন্সিলের জরুরী আহ্বান করার পরে দক্ষিণের কর্মকর্তারা আবার জানান, যৌথ মহড়া কেবল কোরিয়া উপদ্বীপে মিত্রবাহিনীর যুদ্ধকালীন নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে কি না তা মূল্যায়নের জন্য কেবল একটি সুযোগ।

শান্তি ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুন ও কিম গত বছরের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত তিনবার বৈঠক করেছেন, তবে সংলাপের উন্নতি এবং মতবিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করতে খুব কম অগ্রগতি হয়েছে। সিওলের এভা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লিফ-এরিক ইজলি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া যখন প্রতিরোধকে দুর্বলতা হিসাবে ব্যাখ্যা করে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বিভাগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে তখন আস্থা তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।’

ইজলি বলেন, সিওল ও ওয়াশিংটনের উত্তর কোরিয়ার সাথে কর্মপর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়া উচিত তবে, পিয়ংইং যদি জাতিসংঘের প্রস্তাবগুলো লঙ্ঘন এবং প্রতিবেশীদের হুমকি দেয়া অব্যহত রাখে, তবে মিত্রদেরও নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক সহযোগিতা পুনর্নবীকরণ করা উচিত।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com