জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
গুরুত্বপূর্ণ কাশ্মীর: ব্রিটিশ এশিয়ানদের কাছে কতটা

গুরুত্বপূর্ণ কাশ্মীর: ব্রিটিশ এশিয়ানদের কাছে কতটা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বৃহস্পতিবারে লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে ভারত সরকার বিরোধী বিপুল সংখ্যক মানুষের জড়ো হওয়ার কারণে ওই এলাকা স্থবির হয়ে পড়েছিল।

সেখানে একজন নারীর চোখে দেখা যাচ্ছিল অশ্রু আর তার মুখে শ্লোগান ছিলো ‘আমরা কী চাই ? .. ফ্রিডম বা মুক্তি “।

পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে বিক্ষোভকারীদের ভারতের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আগতদের থেকে আলাদা রাখতে গিয়েও। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা কাশ্মীরের ছবি তুলে ধরেছেন ও বাহুতে কালো কাপড় বেঁধেছেন। বিক্ষোভ হয়েছে লন্ডনের কেন্দ্রে ট্রাফালগার স্কোয়ারেও।
প্রতিবাদের কারণ ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বলেছিলেন কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের কারণে ওই অঞ্চলের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো ব্রিটেনের দক্ষিণ এশীয়দের কাছে কাশ্মীর আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু?

রিজ আলী তিন ঘণ্টা ভ্রমণ করে পিটারবার্গ থেকে এসেছিলেন এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে। তার দাদা দাদির জন্মভূমি কাশ্মীরে। এখন ভারত সরকার যা বলছে সেটিকে এককথায় ”ন্যক্কারজনক” বলে অভিহিত করেন তিনি।

“হিটলার যা করেছিল তারই একটি ভার্সন এটি,” বলেন তিনি।

যদিও কাশ্মীরের এ উত্তেজনা তার দৈনন্দিন সামাজিক জীবনে বা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এশিয়ানদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলছে না।

তিনি বলেন, “আমরা মুসলিম এবং আমাদের ধর্ম শান্তির শিক্ষাই দেয়”।

লিডস থেকে এসেছিলেন রাজাক রাজ। তার বাবা মা ইংল্যান্ডে এসেছিলেন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর থেকে।

তিনি বলেন সেখানকার রাজনৈতিক সংকট তার দৈনন্দিন জীবনকে বিভক্ত করছে না, কিন্তু তিনি কোনো ভারতীয় পণ্য না কেনার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

“আমরা সবাই এশিয়ান। আমাদের হেরিটেজ এশিয়ান। ভারতীয়রা অন্যদের মতোই আমার কাছে ভালো। কিন্তু এটা ভারতের জনগণ নয়, ভারতের সরকার”।

উদ্বেগের আরও বিষয় আছে
এসব প্রতিবাদের বাইরেও চ্যারিটি সেক্টরে কাজ করেন এমন দক্ষিণ এশীয়রা বলছেন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের জের ধরে ব্রিটেনে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিভক্তি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

নিলাম হিরা ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিখ। তিনি একটি চ্যারিটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা যারা প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় নারীদের মধ্যে।

“এসব স্বাস্থ্য বা চিকিৎসার বিষয়ে তো বৈষম্য নেই। তাহলে আমাদের মধ্যে বৈষম্য থাকবে কেন?”

তিনি বলেন পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার উত্তেজনা তাদের সভায় বা অনলাইন আলোচনায় আসে না।

সত্যিকার অংশগ্রহণমূলক
হিরার মতো খাকান কোরেশী বার্মিংহামের সমকামী অধিকার কর্মী। তিনি বলেন তাদের মূল লক্ষ্য সব বিশ্বাস ও জাতীয়তার মানুষকে এক রাখা।

“সবাই চেষ্টা করে একে অন্যের সাথে মিলেমিশে থাকতে। এটাই যোগসূত্র তৈরি করে ও বন্ধনকে দৃঢ় করে। কারও সাথে আমি মিশলে নিশ্চয়ই তার বিশ্বাস বা ধর্ম নয়, বরং তার ব্যক্তিত্বকেই আমি বিবেচনা করি”।

যদিও তরুণদের ক্ষেত্রে এটা সবসময় কাজ করে না বলেও মনে করেন তিনি।

“আমি বুঝতে পারি তরুণ প্রজন্ম পরিচয়টার খোঁজ করে এবং কিছু ক্ষেত্রে আলাদা হয়ে থাকতে পছন্দ করে, যদিও সব ক্ষেত্রে নয়”।

আরও বিভক্তি
প্রজ্ঞা প্যাটেল একটি সেক্যুলার সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা যারা লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কাজ করে।

তার মতে, “মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়ছে। দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে সংহতি রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ হলো পরিচয়ের ক্ষেত্রে ধর্মকে বেশি রাজনীতিকরণ করা হচ্ছে”।

তিনি বলেন তরুণরা একে অন্যের বিরোধী ভাবতে শুরু করছে, কারণ তাদের দেশভাগের স্মৃতি নেই, যেখানে প্রায় দশ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিলো এবং জন্ম হয়েছিলো ভারত ও পাকিস্তানের। সূত্র: বিবিসি বাংলা

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com