জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
অবিরাম বর্ষণে তলিয়ে গেছে খুলনা নগরী

অবিরাম বর্ষণে তলিয়ে গেছে খুলনা নগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা : প্রবল বর্ষণে তলিয়ে গেছে খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ এলাকা। প্রতিটি সড়কই এক একটি খালে পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই বৃষ্টি এ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হিসেবে রেকর্ড করেছে আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস।

বৃষ্টিতে মহানগরীর শান্তিধাম মোড়, রয়্যাল মোড়, বাইতি পাড়া, তালতলা, মডার্ন ফার্নিচার মোড়, পিকচার প্যালেস মোড়, পিটিআই মোড়, সাতরাস্তার মোড়, শামসুর রহমান রোড, আহসান আহমেদ রোড, দোলখোলা, নিরালা, বাগমারা, মিস্ত্রিপাড়া, ময়লাপোতা, শিববাড়ি মোড়, বড় বাজার, মির্জাপুর রোড, খানজাহান আলী রোড, খালিশপুর মেঘার মোড়, দৌলতপুর, নতুনবাজার, পশ্চিম রূপসা, রূপসা স্ট্যান্ড রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, বাবু খান রোড, লবণচরা বান্দা বাজারসহ প্রায় সব এলাকার রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এসব এলাকার অনেক ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের বস্তি ঘরগুলোতে দেখা গেছে হাঁটু পানি। অনেক এলাকার ভবনের নিচতলার মেঝে পানিতে তলিয়ে গেছে।

এদিকে, বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল খুবই কম। পেশার তাগিদে বা জরুরি কাজে যারা বের হয়েছেন, জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা বা ইজিবাইক না পেয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে অবিরাম বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল কম থাকার সুযোগে রিকশা ও ইজিবাইক চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। নিরুপায় হয়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত অর্থ দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।

খালিশপুরের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, সকাল থেকে খালিশপুর এলাকা যানবাহন শূণ্য। অফিসে যেতে ভীষণ বেগ পেতে হয়েছে। নগরীর মুজগুন্নী এলাকায় শিশুপার্কের সামনে হাঁটু পানি জমে গেছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টিতে খালিশপুরের অধিকাংশ রাস্তা তলিয়ে গেছে। সব জায়গায় পানি আর পানি।

পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা শেখ রফিক বলেন, পানিতে নগরবাসী গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। পূর্ব বানিয়া খামারসহ বি কে মেইন রোড হাটুপানি জমে আছে। আশপাশের প্রায় সব ঘরবাড়ির নীচতলার অনেকাংশই পানিতে তলিয়ে আছে। পানি উত্তোলনের পাম্প মেশিনও পানির নিচে। ফলে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অধিকাংশ পরিবারে রান্নার চুলা জ্বলেনি। এলাকার দোকানপাটও সব বন্ধ।

নগরবাসী বলছেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, খাল ভরাট, অবৈধ দখল ও বাঁধ দিয়ে মৎস্য চাষসহ নানা কারণে সামান্য বৃষ্টিতে নগড়জুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী।

খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় খুলনাঞ্চলে এ প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। শুক্রবার রাত ৩টা থেকে খুলনায় মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হয়। শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা এ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com