জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
সোনায় মোড়ানো যান নিয়ে কেন চাঁদে যেতে হয়?

সোনায় মোড়ানো যান নিয়ে কেন চাঁদে যেতে হয়?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক :
চন্দ্রযান-২ তার গা ভরা সোনায়। ইসরোর দ্বিতীয় চন্দ্রযানের শরীরের ভিতরে থাকা ল্যান্ডার ‘বিক্রম’-এরও গা সোনায় মোড়া। সেই বিক্রমের অন্তরে, অন্দরে লুকিয়ে থাকা রোভার ‘প্রজ্ঞান’-ও আপাদমস্তক মোড়া সোনায়।
ইসরো সূত্রে খবর, একেবারে নিখাদ সোনা যেমন গায়ে পরতে পারা যায় না, তেমনই চন্দ্রযান-২-এর গা মোড়া যে সোনায়, সেটাও সত্যিকারের সোনা নয়।

ইসরোর ‘মিশন চন্দ্রযান-২’-এর এক বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ জানাচ্ছেন, ওই সোনা আসলে ‘পলিমাইড’ (যা ‘পলিঅ্যামাইড’ বা ‘পলিইমিড’ও হয়) ও অ্যালুমিনিয়ামের একটি মিশ্র ধাতু বা সংকর ধাতু (অ্যামালগ্যামেট)। যার সামনের দিকটায় রয়েছে পলিমাইড পদার্থ। আর পেছনের দিকটায় রয়েছে অ্যালুমিনিয়াম।

এই স‌োনার সাজে না সাজালে চন্দ্রযান-২, বিক্রম আর প্রজ্ঞানকে চাঁদের মুলুকে খুব বেশি ক্ষণ সচল রাখা যেত না। তারা নিস্তেজ হয়ে পড়ত অচিরেই।

মহাকাশে গেলে যে কোনো মহাকাশযানকেই সইতে হয় দু’রকমের ধকল। হয় তাদের পিঠে আছড়ে পড়ে সূর্যের অসম্ভব জোরালো আলো, ক্ষতিকর বিকিরণ। না হলে মহাজাগতিক রশ্মির ঝড়, ঝাপটা। আর সেগুলি অসম্ভব গতিতে এসে আছড়ে পড়ে বলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মহাকাশযানে থাকা যন্ত্রগুলি অসম্ভব গরম হয়ে যায়। আর সেই খুব বেশি তাপমাত্রায় যন্ত্রগুলির পক্ষে আর কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। সেগুলি বিকল হয়ে পড়ে।

আবার মহাকাশযানের যে দিকটায় সূর্যের আলো একেবারেই পড়ে না, বা পড়লেও তা নেহাৎই হয় যৎসামান্য, সেই দিকটার যন্ত্রগুলিকে সচল রাখার ক্ষেত্রে সমস্যাটা হয় ঠিক উল্টো। মহাকাশের ঠান্ডায় সেই দিকটার যন্ত্রগুলি দিয়ে আর কাজ চালানো যায় না। সেগুলি নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্স’-এর কর্মকর্তা, বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী জানাচ্ছেন, মহাকাশযানের ওই সোনার সাজসজ্জা দু’রকমের সমস্যা মেটাতেই প্রধান ভূমিকা নেয়। পলিমাইড এমন এক ধরনের পদার্থ, যার পিঠে এসে আছড়ে পড়া সূর্যরশ্মি বা বিকিরণ অথবা মহাজাগতিক রশ্মির বেশির ভাগটাই প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায়। পলিমাইডের মধ্যে দিয়ে সেই রশ্মি বা বিকিরণ গলে যেতে পারে না। ফলে, মহাকাশযানের পিঠে পলিমাইডের ওই ‘সোনার সাজ’ থাকলে সূর্যরশ্মি বা ক্ষতিকর বিকিরণের জন্য তা সেই দিকের যন্ত্রগুলিকে অসম্ভব গরম হয়ে পড়ার হাত থেকে বাঁচায়।

আবার যে দিকটায় সূর্যের কোনো আলো পড়ে না, সেই দিকের যন্ত্রগুলিকে সচল রাখতেও খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় পলিমাইডের ওই ‘সোনার সাজ’। মহাকাশযানে কোনো যন্ত্র চললে তার যান্ত্রিক শক্তির কিছুটা তাপ শক্তিতে পরিবর্তিত হয়। তাই যন্ত্রটা গরম হয়ে পড়ে। কিন্তু পলিমাইডের সোনার সাজ না থাকলে সেই তাপ শক্তি মহাকাশে বেরিয়ে যেত। ফলে, যন্ত্রটা ঠান্ডা হয়ে পড়ত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। কিন্তু পলিমাইড সেই তাপ শক্তিতে মহাকাশে বেরিয়ে আসতে দেয় না। প্রতিফলিত করে সেই বিকিরণকে যন্ত্রের দিকেই পাঠিয়ে দেয়। ফলে, যন্ত্রটির তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থাতেই থাকে। তা সচল ও কর্মক্ষম থাকে।

সন্তোষ বলছেন, এখন নাসা আসল সোনা ব্যবহার করছে মহাকাশচারীদের হেলমেটেও। সূর্যরশ্মি, ক্ষতিকর বিকিরণ আর মহাজাগতিক রশ্মির ঝড়, ঝাপটা থেকে মহাকাশচারীদের বাঁচাতে। ইসরো এর আগেও ‘সোনার সাজে’ সাজিয়েছে চন্দ্রযান-১, মঙ্গলযান-এর মতো মহাকাশযানগুলিকে।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com