জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
ভিকারুননিসার দুই শিক্ষিকার?কী সাজা হতে পারে

ভিকারুননিসার দুই শিক্ষিকার?কী সাজা হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: কী সাজা হতে পারে ভিকারুননিসা স্কুলের সিদ্ধেশ্বরী শাখার সেই দুই শিক্ষিকার? প্রতিষ্ঠানের প্রভাতী শাখার নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারী আত্মহত্যায় তার বাবা দিলীপ অধিকারীর করা মামলায় বর্তমানে জামিনে রয়েছেন তাঁরা।ওই ঘটনায় অরিত্রীর বাবা রাজধানীর পল্টন থানায় ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর তিন শিক্ষিকাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখাপ্রধান জিনাত আক্তারকে অভিযুক্ত করে ৩০৫ ধারায় চার্জশিট দাখিল করে ডিবি পুলিশ। আর শ্রেণিশিক্ষিকা হাসনা হেনাকে অভিযুক্ত করার মতো সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁর অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। গত ১০ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম। আদালত আগামী ২৭ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন।মা-বাবার স্বপ্ন, সহপাঠীদের গর্ব, ছোট বোনের একমাত্র খেলার সাথী ছিল অরিত্রী অধিকারী। পড়ালেখায় যেমন ভালো, তেমনি মা-বাবার বাধ্য সন্তান ছিল সে। বড় হওয়ার আকাঙ্খা নিয়ে ভর্তি হয়েছিল দেশের সেরাদের সেরা ভিকারুননিসা নূন স্কুলে। এগিয়েও গিয়েছিল অনেকটা। শিক্ষকদের দ্বারা মা-বাবার অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে অরিত্রী। সেই ঘটনায় কেঁপে ওঠে পুরো দেশ। কান্নায় ভেঙে পড়ে সহপাঠীরা। সেই কান্না এক সময় ক্ষোভে রূপান্তরিত হয়। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রাজপথে। অরিত্রীর পরিণতির জন্য দায়ীদের বিচারের দাবি ওঠে সর্বমহল থেকে। বিচার পেতে মামলা করেন অরিত্রীর বাবা।দুই আসামির বিরুদ্ধে যে ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে উক্ত ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের মৃতুদণ্ড হতে পারে। ওই ধারায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডেরও বিধান আছে।
মামলা সম্পর্কে বাদীপক্ষের আইনজীবী সবুজ বাড়ৈ সজীব বলেন, ‘মামলাটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়ে বিচার শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ১৬১ এর সাক্ষী এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের মাধ্যমে আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হব।’ মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করছেন এ আইনজীবী।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাবিনা আক্তার (দিপা) বলেন, ‘এটি একটি আলোচিত মামলা। মামলাটির বিচারকাজ শেষ করতে আমরা তৎপর আছি। ইতোমধ্যে সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেয়ার জন্য সমন পাঠানো হয়েছে। মামলাটির বিচার যেন দ্রুত শেষ হয় এবং ভূক্তভোগীরা যেন নায্য বিচার পায় সেজন্য আমরা চেষ্টা করে যাব।’ তিনিও আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করেন।আসামিপক্ষের আইনজীবী এসকে আবু সাঈদ বলেন, ‘এতদিন আমি মামলাটি পরিচালনা করেছিলাম। সম্প্রতি মামলাটি ছেড়ে দিয়েছি। এ সম্পর্কে আমি আর কিছু বলতে পারব না।’অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী বলেন, ‘ঘটনার দিন মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাই। সেদিনও অরিত্রী স্কুলের ড্রেস পরে গিয়েছিল। ভেবেছিল পরীক্ষা দিতে পারবে। কিন্তু সেদিন শিক্ষকরা আমাদের কোনো কথাই শোনেননি। তাঁরা আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। আমি আমার মেয়েদের স্কুল থেকে সরিয়ে নিতে সময় চেয়েছিলাম। তাঁরা আমাকে কোনো শোকজ করেননি, চেয়ারে বসতে গেলে বসতে দেননি। নোংরা একটা চেয়ারে বসতে দিয়েছিলেন। সেই ১৫-২০ মিনিট মনে হয়েছিল আমার কোনো শক্তি, কোনো মেধা নেই।’তিনি আরো বলেন, ‘যে মেয়ে আমার ঘর আনন্দে ভরে রাখত উনারা তাকে বাঁচতে দিলেন না। আমি তো আর আমার মেয়েকে ফিরে পাব না। তবে এ ধরনের ব্যবহার যেন আর কোনো অরিত্রীর সাথে না হয়, সেজন্য আমি লড়ে যাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছি, যাব। আমি তাঁদের সর্বোচ্চ সাজা চাই। আর কোনো শিক্ষক যেন শিক্ষার্থী বা তার বাবা-মায়ের সাথে ওমন আচরণ না করেন। তাদের ব্যবহারে কেউ যেন আত্মহত্যায় প্ররোচিত না হয়।’গত ৩ ডিসেম্বর পরীক্ষা চলাকালে অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পান শিক্ষক। মোবাইল ফোনে নকল করেছে, এমন অভিযোগে অরিত্রীকে পরদিন তার মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়। দিলীপ অধিকারী স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ওই দিন স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাদেরকে অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। মেয়ের টিসি নিয়ে যেতে বলেন। পরে প্রিন্সিপালের কক্ষে গেলে তিনিও একই রকম আচরণ করেন। সে সময় অরিত্রী দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে শান্তিনগরে বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যরা অরিত্রীকে তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা অরিত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর ৫ নভেম্বর শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরের দিন আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে ৯ ডিসেম্বর জামিন পান হাসনা হেনা। ১৪ জানুয়ারি নাজনীন ফেরদৌস ও জিনাত আক্তার আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।গত ২০ মার্চ নাজনীন ফেরদৌস ও জিনাত আক্তারকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার। শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে অভিযুক্ত করার মতো সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তার অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।নির্দয় ব্যবহার ও অশিক্ষকসুলভ আচরণে আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয় বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। চার্জশিটে ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। অরিত্রির মোবাইল ফোন, পরীক্ষার খাতাসহ ছয় প্রকার আলামত জব্দ করা হয়েছে।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com