জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতের দায় না

বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতের দায় না

যুগ-যুগান্তর ডেস্ক :

মিয়ানমারে জাতিগত নিধন ও হত্যার শিকার হয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণেই জায়গা দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এত বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীদের চাপ বর্তমানে এক রকম বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে বোঝার চাপ নিতে নারাজ বাংলাদেশ সরকার। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দুই দফা প্রস্তুতির পরও ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। এ দেশে আশ্রিত থেকেই মিয়ানমারে নিজেদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার দাবি তুলছে রোহিঙ্গারা। তবে তাদের এসব দাবি পূরণের দায়ভার বাংলাদেশ সরকার আর নেবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মিয়ানমারে জাতিগত নিধন, হত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে পরবর্তী তিন মাসে বাংলাদেশ সীমান্তে আশ্রয় নেয় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা নারী গর্ভবতী অবস্থায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এর আগে ১৯৬৮ সাল থেকে বাংলাদেশে আশ্রিত রয়েছে আরও অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা। নতুন করে অনুপ্রবেশের পর গত ২০ মাসে এখানে জন্ম নিয়েছে আরও প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা শিশু। জানা গেছে, ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন গড়ে জন্ম নিচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ শিশু।

বর্তমানে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দুই দফা প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি নেয় বাংলাদেশ। তবে দু’বারই সেই প্রস্তুতি ভেস্তে যায়। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে। এই যৌথ গ্রুপ বিভিন্ন সময় ঢাকা ও নেপিদোতে বৈঠকও করেছে।

প্রথম দফায় গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গাদের ফেরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সবকিছু চূড়ান্ত থাকলেও সে সময় রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। এরপর গত ২২ আগস্ট আবারো রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে এবারো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে গেছে।

রোহিঙ্গাদের দাবি, চারটি শর্ত পূরণ না হলে তারা রাখাইনে ফিরে যাবে না। এ চারটি শর্তের মধ্যে তাদের প্রধান দাবি মিয়ানমার সরকার থেকে তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া রাখাইনে তাদের বসতভিটায় পুনর্বাসন, তাদের সবার লুট হওয়া সম্পদ ফেরত এবং রোহিঙ্গাদের ওপর যারা নিপীড়ন চালিয়েছে তাদের বিচারের দাবি।

তবে রোহিঙ্গাদের এসব শর্ত পূরণের দায় নেবে না বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে যাওয়ার জন্য যে শর্ত দিচ্ছে, বিশেষ করে নাগরিকত্ব। সেই শর্ত ওখানে গিয়েই পূরণ করতে হবে।তিনি বলেন, মিয়ানমারে ফেরত গিয়েই সেখানকার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দাবি দাওয়া আদায় করে নিতে হবে। আমরা এখান থেকে তাদের এসব শর্ত পূরণ করতে পারবো না।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com