জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
দ্বিতীয় বাচ্চা নেওয়ার আগে যা করতে হয়

দ্বিতীয় বাচ্চা নেওয়ার আগে যা করতে হয়

যুগ-যুগান্তর ডেস্ক :

দ্বিতীয় শিশু জন্মানোর আগেই প্রথম শিশুকে প্রস্তুত করে নিতে হয়। কারণ এ সময়ে প্রথম শিশুর মধ্যে রাগ, ক্ষোভ ও অভিমান জন্ম নিতে পারে। যা উভয় শিশুর জন্যই ক্ষতিকর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শিশুকে আক্রমণের শিকার হতে দেখা যায়। এমনকি এর ফলে পরিবারের শান্তিও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এই সময়ে কী করবেন বিস্তারিত জানালেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট এবং সহযোগী অধ্যাপক তানজির আহমেদ তুষার শিশুকে প্রস্তুত না করলে এই ক্ষোভ বা অভিমান প্রথম শিশুর মধ্যে সারা জীবন থেকে যেতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে প্রথম শিশু ভেতরে ভেতরে কষ্ট পেয়ে ও অভিমানে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ জীবনকে অন্ধকার করে ফেলে। তার আত্ম-বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়। বিষণ্ণতার জন্য দায়ী ‘আমি অযোগ্য’ জাতীয় বিশ্বাস জন্ম নেয়। যা তার লেখাপড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সম্পর্ক তৈরি ও বজায় রাখতে অসুবিধায় ফেলে। পরিবারের সদস্যরা নিচের বিষয়গুলোতে একটু সচেতন হলে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
কেন এমন হয়

দ্বিতীয় সন্তান জন্ম হওয়ার আগ পর্যন্ত বড় সন্তান পরিবারের সব মনোযোগ ও আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে থাকে। দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ার পর স্বাভাবিক কারণেই দ্বিতীয় সন্তানকে বেশি সময় ও মনোযোগ দিতে হয়। কিন্তু এ সময়ে প্রথম সন্তানের কাছে মনে হয়, সে সবার ভালোবাসা ও মনোযোগ ছোট’র কারণেই হারিয়ে ফেলেছে। তখন ছোট’র প্রতি রাগ-ক্ষোভ ও বড়দের প্রতি অভিমান তৈরি হয়। অনেক সময়ে প্রথম সন্তান নিজেকে অপরাধীও ভাবতে থাকে; ‘আমি বোধ হয় খারাপ কাজ করেছি তাই তারা আর একটি বাবু নিয়ে এসেছে’।
জন্মের আগে

শিশু অন্য কারও কাছ থেকে শোনার আগেই শিশুকে জানান যে সে বড় ভাই/বোন হতে চলেছে। এ সময়ে তার মন খারাপ বা রাগ হতে পারে। খুব স্বাভাবিকভাবে নিয়ে তার এই আবেগগুলো প্রকাশ করতে সাহায্য করুন। তাকে আশ্বস্ত করুন যে আপনারা তাকে ভালোবাসেন এবং সব সময় তাকে ভালোবাসবেন। সে বড় ভাই/বোন এবং বড় হয়ে উঠছে এই ধারণা তাকে দিন। বড় সন্তানের বিছানা পরিবর্তন করতে হলে সন্তান আসার ঘোষণা দেওয়ার আগেই করুন। নইলে সে ভাবতে পারে যে ছোট’র কারণেই তাকে আলাদা করে দিল। ‘আর একটা বাবু আসছে তোমার তো আদর শেষ’ বা ‘তুমি কথা শোন না আমরা আর একটা বাবু নিয়ে আসব’ এ জাতীয় কথা যেন কেউ না বলে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
হাসপাতালে

দ্বিতীয় সন্তান হওয়ার সময়ে প্রথম সন্তান হাসপাতালে থাকলে সার্বক্ষণিক তার সাথে কাউকে থাকতে হবে। সে যখন প্রথমবার মাকে দেখতে যাবে তখন মা বড়কে কাছে টেনে নিলে তার ভালো লাগবে ও সে আশ্বস্ত হবে। এ সময়ে নবজাতক শিশুর পক্ষ থেকে বড়কে উপহার দিন। দুজনের একসঙ্গে ছবি তুলুন। অতিথিদের আনা ছোট’র জন্য উপহারগুলো বড়কে খুলতে বলুন। বড়কে ভালোবাসা দিন ও তার নেতিবাচক আচরণের জন্য কোনো ধরনের বকা দিবেন না। এ সময়ে সে ছোট বয়সের মতো আচরণ করতে পারে। এই নেতিবাচক আচরণগুলো না দেখার ভান করুন।
জন্মের পর বাসায়

ছোট সন্তানকে দেখতে আসা মেহমানদের বলুন আগে বড়কে একটু সময় দিতে এবং আদর করতে। তাহলে সে নিজেকে একা ও নিগৃহীত ভাববে না। বড় সন্তানকে ছোট’র বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্ব দিন। তবে তা করার জন্য চাপাচাপি করবেন না। এতে তার মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়বে ও ছোটকে নিজের মনে করতে পারবে। বড় সন্তানের বিভিন্ন প্রয়োজন ও দৈনন্দিন কার্যাবলিতে যেখানে বাবা-মা সাহায্য করতেন সেখানে তা করা অব্যাহত রাখতে হবে। মাকে ছোট সন্তান নিয়ে অনেক ব্যস্ত ও নির্ঘুম থাকতে হয়, তবুও বড়

সন্তানের সঙ্গে দিনে ১৫ মিনিট সময় খেললে বা কোনো কাজ ছাড়া কাটালে বড়’র মনোযোগের চাহিদা কিছুটা পূরণ হবে, সে মানসিকভাবে ভালো থাকবে। অন্য কোনো ভালো সময়ে বড়কে আদর করে বোঝাতে হবে কী কারণে ছোটকে সময় বেশি দিতে হচ্ছে। তাকেও এ বয়সে এমনি করে বা এর চাইতেও বেশি সময় দিতে পেরেছিলেন তা বোঝাতে হবে।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com