জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
কৃষি শিল্প প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির ছোবলে

কৃষি শিল্প প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির ছোবলে

 

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা : দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠার সাত বছর পরেও লক্ষ্মীপুরে কাজ শুরু করতে পারেনি একটি কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান।

কৃষি পণ্যের সদ্ব্যবহার ও স্থানীয়দের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১২ সালে লক্ষ্মীপুরে কৃষি ভিত্তিক একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু সম্ভাবনাময় এই প্রতিষ্ঠানটির কাজ সাত বছরেও শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কারণ এম এইচ এগ্রো পার্ক লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানটিতে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসনের দুর্নীতির ছোবল।

জানা গেছে, প্রায় ৭ বছর আগে প্রতিষ্ঠানটির ২ একর সাড়ে পঞ্চান্ন শতাংশ জমির নামজারির জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এটি আটকে যায়। সম্প্রতি দ্বিতীয়বার একই আবেদন করেও কোন সুফল পায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে হয়রানির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল ইসলাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক, এনডিসি, আরডিসি, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগটি স্থানীয় সরকারের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালককে তদন্তের জন্য বলা হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত বুধবার (২১ আগস্ট) স্থানীয় সরকারের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী লক্ষ্মীপুরে তদন্তে আসেন। তিনি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উভয় পক্ষের শুনানী, নথি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রাদি পর্যালোচনাসহ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

মন্ত্রণালয়ে দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সুতার গোপ্টা নামক স্থানে এ এইচ এগ্রো পার্ক লিমিটেড নামের একটি কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে ২০১২ সালের ২৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির ২ একর সাড়ে পঞ্চান্ন শতাংশ জমির নামজারী ও জমা খারিজ করার জন্য আবেদন করা হয়। তখন কাজটি করতে জেলা প্রশাসকের তহবিলের জন্য ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন উচ্চমান সহকারী আবদুল জলিল। টাকা না দেয়ায় নামজারি ও জমা খারিজের বিষয়টি নিয়ে আরডিসি, এনডিসি, জেলা প্রশাসক ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে নিয়মিত যোগাযোগ করতে থাকেন কোম্পানির প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম। এরপর ৭ বছরেও তা সম্ভব হয়নি।

সবশেষ চলতি বছরের ২১ মার্চ নামজারির জন্য পুনরায় জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালের কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রায় ৫ মাস হয়ে গেলেও তা সম্পন্ন হয়নি। কারণ জানতে মোবাইলফোন সেটে কল করলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে অশোচনীয় আচরণ করেন ডিসি।

স্থানীয়রা বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কৃষি পণ্যের সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হতো। বহুগুণ সমৃদ্ধ হতো জেলার অর্থনীতি। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাত বছরেও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি সম্ভাবনাময় এই প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম বলেন, জমির নামজারিতে প্রশাসনের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে একটি মহৎ উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন করা যায়নি। এ নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযোগের আলোকে সকল প্রমাণ ও সাক্ষী তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট উপস্থাপনা করা হয়েছে। আমি এ অনিয়মের ও দুর্নীতির শেষ দেখতে চাই। ভবিষ্যতে যাতে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সেবা প্রত্যাশি কারো সাথে এমন আচরণ করতে সাহস না পায়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে তদন্ত এলে সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তদন্ত এলেই যে আপনাদের নিউজ করতে হবে, তার কোন মানে নেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা দীপক চক্রবর্তী মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com