জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
ডায়রিয়া আতঙ্ক চুয়াডাঙ্গায় , ১৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি ৭২ ঘণ্টায়

ডায়রিয়া আতঙ্ক চুয়াডাঙ্গায় , ১৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি ৭২ ঘণ্টায়

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেছে। শুক্রবার দুপুর থেকে গত ৭২ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৩৫ জন রোগী চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ডেঙ্গু রোগী নিয়ে এমনিতেই চিকিৎসকরা অনেক ব্যস্ত, তার ওপর ডায়রিয়ার বাড়তি রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসক নার্সদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে। ডেঙ্গুর সঙ্গে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ায় রোগী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

রবিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে ডায়রিয়া আক্রান্ত একের পর এক রোগী আসছে। হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা, চলাচলের পথ, এমনকি ট্রলি উঠানোর সিঁড়িতেও ডায়রিয়া রোগীতে ভরে গেছে। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে ব্যস্ত চিকিৎসক ও নার্সরা। আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে জেলার সব এলাকা থেকে ডায়রিয়া রোগী আসছে হাসপাতালে।

জেলার শহরের মাস্টার পাড়ার জসিম উদ্দীনের স্ত্রী অনামিকা জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তার স্বামীর হঠাৎ বমি শুরু হয়। এরপর পাতলা পায়খানা। শনিবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৮-১০ বার বাথরুম থেকে আসার পর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সীট না পেয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে বারান্দায়। এখানে এসেও ৫-৭ বার পাতলা পায়খানা হয়েছে। তবে ডাক্তার চিকিৎসা দেওয়ার পর অনেকটাই সুস্থ। কি কারণে তার স্বামী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বুঝতে পারছেন না।

ডায়রিয়ার রোগী জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার আসমান খালি গ্রামের আমির আলী জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কতবার পায়খানা হয়েছে হিসাব নেই। কিছুক্ষণ পরপরই টয়লেটের চাপ হচ্ছে। শুনেছি ডেঙ্গু হলে পাতলা পায়খানা, বমি ও মাথা ব্যথা হয়। তাই আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতালে চলে আসি।চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. পরিতোষ কুমার ঘোষ জানান, অতিরিক্ত পাতলা পায়খানা ও বমি অবস্থায় রোগীরা হাসপাতালে আসতে থাকেন। শুক্রবার থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে আসছে। একজনের চিকিৎসা দিতে না দিতেই আরও কয়েকজন আসতে থাকে। রোগীর চাপে তারা হিমসিম খাচ্ছেন। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার ডা. শামিম কবির জানান, গত ৭২ ঘণ্টায় রবিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ১৩৫ জন ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭০ জন পুরুষ, ৭৯ জন নারী ও একজন শিশু। আক্রান্তদের মধ্যে ৫-৬ জনের ডেঙ্গুর পরীক্ষা দেওয়া হয়েছে। বাকিরা স্বাভাবিক ডায়রিয়ার রোগী বলেই মনে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আক্রান্তদের খাবার ও ফ্লুইড স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুদ আছে। ওয়ার্ডে সিট না থাকায় যেখানে ফাঁকা জায়গা আছে সেখানে রেখে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অস্বাভাবিক হারে রোগটি ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক ব্যাধি বিভাগকে জানানো হয়েছে।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com