জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেবে করোনার পূর্বাভাস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেবে করোনার পূর্বাভাস

যুগ-যুগান্তর ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৭১ মানুষ। আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে তিন লাখ আট হাজার ৬০৯ জন। ভাইরাসটি ভবিষ্যতে আরো কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা নিয়ে চিন্তিত গবেষক ও বিশ্বের কর্তা ব্যক্তিরা। তবে ভাইরাসটির ভয়াবহতা নিরূপনের জন্য সুখবর দিল বাংলাদেশের নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফলিত গণিত বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী আহমেদ কাওছার। তার উদ্ভাবন করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার পূর্বাভাস জানাবে।
উদ্ভাবনের ব্যপারে আহমেদ কাওছার বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আমাদের কাজ। ভাইরাসটি এতই দ্রুত হারে বাড়ছে, ভবিষ্যতে কি হবে তা কেউ বুঝতে পারছেন না। সেই ভাবনা থেকে করোনার ভয়াবহতার সঠিক রেট বের করার পদ্ধতির কথা ভাবি। শুরু হল আমাদের গবেষণা। প্রথমে অর্ডিনারি মেশিং লার্নিংগুলোর সহায়তায় সেটি সমাধান করা যাবে বলে ভেবেছিলাম।।

কিন্তু কাজে নামার পর বুঝলাম, যতটা সহজ মনে হচ্ছে আসলে বিষয়টি ততটা সহজ না। কারণ অর্ডিনারি মেশিং লার্নিং অ্যালগরিদমগুলোর সহায়তায় যদি সমস্যা সমাধান করি তাহলে সেটি বেশি ভবিষ্যত নির্ণয় করতে সক্ষম হবে না। এরপর গেলাম ডিপ লার্নিং-এ। ডাটার সংখ্যা অনেক কম, তাছাড়া ডিপ লার্নিং অ্যালগরিদম ও সঠিকভাবে প্রেডিকশনে সক্ষম হচ্ছে না। এরপর আমরা কিছু স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যলগরিদম দিয়েও চেষ্টা করেছি। কিন্তু ব্যর্থ হলাম। তখন চিন্তা করলাম একটি নিউ অ্যালগরিদমের কথা। এরপর হয়ে গেল। কাজ প্রস্তাব করে ফেললাম। একটি নতুন নন-পেরামেট্রিক স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যান্ড অনলাইন মেশিং লার্নিং অ্যগরিদম, যার নাম দিলাম লার্নিং ফর টুমোরো। এ অ্যালগরিদম নিয়ে সামনে আরো কাজ করা হবে।

আমাদের অ্যালগরিদমটি মূলত যে কাজটি করবে তা হচ্ছে আগামী সাত থেকে ১০ দিন পর করোনার রোগীর সংখ্যা কত হতে পারে, কয়জন মানুষ মারা যেতে পারে, আর কয়জন সুস্থ হতে পারে এগুলোর ধারণা দেবে। যাতে আমরা সবাই সাত থেকে ১০ দিন আগে থেকে সচেতন হতে পারি। আর ভবিষ্যতের জন্য করণীয় ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। তখন আমরা করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম হব।

অ্যালগরিদমটির ব্যাপারে কাওছার বলেন, প্রথমে অ্যালগরিদমটি প্রতিদিনের ডাটার উপর ভিত্তি করে লার্নিং হবে। যেমন আজকের ডাটার উপর যে লার্নিং হবে, এরপর আগের ডাটার রেটের সঙ্গে একটি সম্পর্ক করবে। তারপর একটি ফাংশন দাঁড় করাবে। যেটি এমনভাবে তৈরি হবে, যাতে ভুলটা সবচেয়ে কম হয়। তারপর সে প্রেডিকশন করবে সাত থেকে ১০ দিনের করোনার অবস্থা কি হবে। এ প্রেডিকশন আমাদের প্রস্তুতির জন্য অনেক বেশি সাহায্য করবে। ফলে আমরা করোনা মোকাবিলা করতে সক্ষম হব। আপতত আমরা সেটির দুটি ভার্সন করেছি। একটি পুরো ওয়ার্ল্ডের জন্য অন্যটি বাংলাদেশের জন্য।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে ডেটা কম। ২০ থেকে ২২টি ডেটা দিয়ে ভবিষ্যত বের করা খুবই কষ্টকর। তবুও আমরা করেছি যাতে প্রতিদিন অ্যালগরদিমটি শিখতে পারে। আর প্রোগ্রামটি সবার জন্য একটি ওয়েব সফটওয়্যার আকারে ওপেন করে দিয়েছি। যেকেউ সেখানে গিয়ে করোনা সম্পর্কে ভবিষ্যতের একটি ধারণা পাবে। আর নিজেই প্রস্তুতি নিতে পারবে। এ কাজে সহযোগিতা করেছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এসকে ফয়সাল আহমেদ। তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

রিসার্চ সোসাইটির আয়োজনে ভারতের বেঙ্গালরুতে অনুষ্ঠিত ‘ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইনোভেটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি (আইসিআইইটি) – ২০১৯’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে আহমেদ কাওছার। আউটস্ট্যান্ডিং রিসার্চের জন্য বেস্ট রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি। প্রযুক্তির উদ্ভাবন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কাওছার ‘ডিপ নিউরাল নেটওয়ার্ক ও অপটিমিজম’ এর ওপর নতুন অ্যালগরিদম (গাণিতিক পরিভাষা) নিয়ে কাজ করে বেস্ট রিসার্চ পেপার অ্যাওয়ার্ডও পান।

এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের আয়োজিত আইইইই সম্মেলনে কম্পিউটার ভিশনের ওপর গবেষণার জন্য শ্রেষ্ঠ গবেষক অ্যাওয়ার্ড পান কাওছার। ওই সম্মেলনে কম্পিউটার ভিশন এবং অটোমেটেড প্রসেসের ওপর গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন তিনি। যা ক্রিকেট খেলায় আম্পায়ারের কাজ করবে।

এছাড়া কাওছার স্প্রিঙ্গার আয়োজিত সম্মেলনে শ্রেষ্ঠ গবেষক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। ওই সম্মেলনে তিনি নতুন একটি অ্যালগরিদমের ওপর গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। যার সাহায্যে নিউম্যারিক্যাল ইন্টারপোলেশন মেথডকে রিগ্রেশনের কাজে ব্যবহার করা যাবে। কাওছার বাংলা ল্যাংগুয়েজ টুল কিট ডেভেলপ করে রবি আর ডেঞ্জার ২.০ তে ইনভেস্ট পাওয়ার এ বিজয়ী হয়েছিলেন।

সম্প্রতি বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ডে সংলাপ নামে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাংলা চ্যাটবট অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। ইম্প্যাক্ট লার্নিং নামে একটি নতুন মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম নিয়ে বর্তমানে কাজ করছেন কাওছার। এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১৭ টি।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com<br>This site create and maintenance by Fahim Shaon.  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com