জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
অজোপাড়া গাঁয়ে ট্রাকচালকের বিস্ময় প্রতিভা, মান্না দে’র হুবহু সুর

অজোপাড়া গাঁয়ে ট্রাকচালকের বিস্ময় প্রতিভা, মান্না দে’র হুবহু সুর

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :

অজোপাড়া গাঁয়ের মানুষ আজমত আলী। ভালোলাগা থেকে ১২ বছর বয়সে উপমহাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী মান্না দে’র গান শিখতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু অল্প বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসায় গান শেখার শখ পূর্ণ হয়নি। জীবিকার তাগিদে হয়েছেন ট্রাকচালক। তবে তার গানের সুর শুনে যেকেউ বলবে সাক্ষাৎ মান্না দে গান গাইছেন। এতে তাকে সবাই মান্না দে বলে ডাকে। এমনকি তার গান শুনতে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসেন।
আজমত আলী কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউপির কাদেরপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি। তিনি স্টেজ বা ঘরোয়া গানের আয়োজনে আমন্ত্রিত হন।

স্টেজ বা ঘরোয়া আয়োজনে আজমত আলী যখন ‘আমি যে জলসা ঘরে, কি দেখলে তুমি আমাতে, কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই, ক ফোটা চোখের জল ফেলেছো তুমি, হাজার টাকার ঝাড়বাতিটা, শাওন রাতে যদি, সে আমার ছোট বোন, সুন্দরীগো দোহাই দোহাই মান করোনা ও কাল কিছুতে ঘুম এলোনাসহ নানা গানের; সুর তলেন তখন দর্শকদের মনে হয় গানগুলো মান্না দে-ই গাইছেন।

আজমত বলেন, আমার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তাই বড় ভাই আক্কাস আলীর কাছ থেকে ১২ বছর বয়সে গান শেখা শুরু করি। কিন্তু সংসার শুরু করায় কণ্ঠশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। জীবিকার তাগিদে ট্রাক চালানোর পেশাকে বেছে নিলেও শত ব্যস্ততার মধ্যেও বিভিন্ন স্থান থেকে গান গাওয়ার আমন্ত্রণ পাই। আমন্ত্রণ পেলে স্টেজ বা ঘরোয়া গানের আসরে মান্না দে’র সব গান পরিবেশন করি।

হুবহু গান গাওয়ার ব্যাপারে আজমত আলী বলেন, ছোটবেলা থেকে মান্না দে’র গান শুনে গানের প্রতি ভালোলাগা তৈরি হয়। সেই থেকে মান্না দে’র গান তার মতো করে গাওয়ার চর্চা শুরু করি। তার গানগুলো হুবহু রপ্ত করতে অনেক সময় লেগেছে। দীর্ঘদিনের সাধনার পর হুবহু মান্না দে’র গানগুলো গাইতে শুরু করি। এখন শ্রদ্ধেয় মান্না দে’র প্রায় সবগুলো গান হুবহু গাইতে পারি।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয়রা গান শুনে প্রশংসা করেন। অনেকেই ভালোবেসে আমাকে মান্না দে বলে ডাকেন। সুর ও তাল ঠিক করে মান্না দে’র গানগুলো হুবহু গাওয়ার আমি চেষ্টা করি। কারণ মান্না দে এখন ধ্যান ও জ্ঞান।

আজমত আলী বলেন, দেশ-বিদেশের জনপ্রিয় অন্য কোনো শিল্পীর গান হুবহু গাইতে চেষ্টা করি না। সময় পেলে গজল সম্রাট গুলাম আলী ও অনুপ জালোটার গান শুনি ও গাই। কিন্তু অনুষ্ঠান কিংবা স্টেজ শোতে কেবল মান্না দে’র গানই পরিবেশন করি।

কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বলেন, উপমহাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মান্না দে’র গান আজমত আলী হুবহু গাইতে পারে যা সত্যিই বিস্ময়কর। অজোপাড়া গাঁয়ে অবহেলায় পড়ে থাকা আজমত আলীদের মতো প্রতিভাবানদের খুঁজে বের করে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা করা উচিত। আজমতরা দেশের সম্পদ

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com