জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
ইসলামে পুত্র সন্তানের তুলনায় কন্যা সন্তানের মর্যাদা বেশি

ইসলামে পুত্র সন্তানের তুলনায় কন্যা সন্তানের মর্যাদা বেশি

ধর্ম ডেস্ক:

প্রশ্ন: একজন বোনের কোনো ভাই নেই। তারা তিন বোন। সে জন্য তার বাবা-মা’র অনেক আফসোস! তারা মনে করেন, ছেলে থাকলে তাদের লাশ দাফন করতে পারত, কবর জিয়ারত করতো.. ইত্যাদি।
এ নিয়ে এই বোনগুলো অনেক কষ্ট পায়। তাই ‘কন্যাসন্তান বাবা-মার জন্য অকল্যাণকর নয়’ এই মর্মে যদি কোরান ও হাদিস ভিত্তিক কিছুটা আলোচনা করতেন ভীষণ উপকার হবে। ইনশাআল্লাহ!

উত্তর: ছেলে হোক-মেয়ে হোক উভয়টি আল্লাহর নিয়ামত। তাই এই নিয়ামত পেয়ে আমাদের উচিৎ, মহান রবের দরবারে কৃতজ্ঞতা আদায় করা। কারণ এমনও তো হতে পারত যে, আল্লাহ ছেলে-মেয়ে কোনোটাই না দিয়ে বন্ধ্যা করে দিয়েছেন।

হ্যাঁ, যার মেয়ে আছে সে অবশ্যই ছেলে সন্তান পাওয়ার আগ্রহী হবে। এটা দোষণীয় নয়। এটি মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। এ জন্য সে দোয়াও করতে পারে। তবে আল্লাহ যদি তা না দেন তবে আল্লাহ যা তাকদিরে লিখে রেখেছেন তার ওপর সন্তুষ্ট থাকা অপরিহার্য। না হলে তা ঈমানের ছয়টি রোকনের একটি (তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি) বিশ্বাসে ফাটল সৃষ্টি হবে।

মনে রাখতে হবে, নিশ্চয় আল্লাহ বান্দার ব্যাপারে তাই সিন্ধান্ত গ্রহন করে যা তার জন্য কল্যাণকর। তিনি কখনো বান্দার অকল্যাণ চান না।

কেউ হয়ত ভাবে, ছেলে সন্তান হলে সে পিতা-মাতার কাফন-দাফন করত বা কবর জিয়ারত করত …ইত্যাদি। কিন্তু এর বিপরীতটাও তো হতে পারত। অর্থাৎ সে ছেলে অন্যায় পথে পরিচালিত হত এবং তা তাদের জীবন দুর্বিসহ করে তুলত। কারণ আমরা কেউ ভবিষ্যত সম্পর্কে অবহিত নই-একমাত্র আল্লাহ ছাড়া। তাই তিনি যা চেয়েছেন তাই দিয়েছেন। অতঃএব, আল্লাহর ফয়াসালাতেই সন্তুষ্ট থাকা জরুরি।

হাদিসে কন্যা সন্তান বিষয়ে কী বলা হয়েছে?

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, হাদিসে কন্যা সন্তানের ব্যাপারে যে মর্যাদার কথা বলা হয়েছে, পূত্র সন্তানের ব্যাপারে তা বলা হয়নি।

নিম্নোক্ত হাদিসগুলো দেখুন-

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنِ ابْتُلِيَ مِنَ الْبَنَاتِ بِشَيْءٍ، فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ كُنَّ لَهُ سِتْرًا مِنَ النَّارِ»
‘যে ব্যক্তিকে মেয়ে সন্তান প্রদানের মাধ্যমে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) পরীক্ষা করা হলো, সে যদি তাদের সঙ্গে অনুগ্রহ সুলভ আচরণ করে তাহলে তারা সে ব্যক্তির জন্য জাহান্নামের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৫৯৯৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ২৬২৯; মাকতাবা শামেলা)।
চিন্তা করুন, যখন মেয়েরা ছিল মানুষের অবজ্ঞার পাত্র, তাকে মাটিতে পুঁতে ফেলে ওরা নিজেদের লজ্জা ঢাকত, তখন ইসলামের এই ঘোষণার গুরুত্ব কতটুকু চিন্তা করুন তো।…..মেয়েদেরকে রক্ষা করা, তাদেরকে শিক্ষা দেয়া, বিয়ের ব্যবস্থা করে দেয়া, তাদের সঙ্গে দয়া ও অনুগ্রহ সুলভ আচরণ প্রসঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত চমৎকার নির্দেশনা দান করলেন!!

মুসনাদে আহমদে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির যদি একজন কন্যা সন্তান থাকে এবং সে তাকে হত্যা করেনি, কোনো প্রকার অবহেলা করেনি এবং পুত্র সন্তানকে কন্যা সন্তানের ওপর কোনো প্রকার প্রাধান্য দেয়নি। আল্লাহ তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (মুসনাদে আহমদ: ২২৩/১)।

ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুই জন কন্যা সন্তান লালন-পালন করে, কেয়ামতের আমি এবং সে দুটি আঙ্গুলের মতো এক সঙ্গে মিলেই উপস্থিত হব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুল দুটি মিলিয়ে দেখান।’ (সহিহ মুসলিম: ২৬৩১)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চার জন কন্যা আর দুজন পূত্র সন্তান ছিল। কিন্তু পূত্রদ্বয় শিশু অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে। আর কন্যাদের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভালোবাসা ও স্নেহ মমতা ছিল বিষ্ময়কর।

সুতরাং পূত্র সন্তান না পেলে মন খারাপ করা উচিৎ নয় বরং মেয়েদেরকে পূর্ণ-স্নেহ, মমতা দিয়ে প্রতিপালিত করলে এবং ধৈর্যের সঙ্গে তাদেরকে দ্বীন শিক্ষায় শিক্ষিত করলে ইনশাআল্লাহ! তারাই পিতা-মাতার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে অবারিত কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসবে এবং তাদের জন্য জাহান্নামের আগুনের সামনে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে। আল্লাহ কবুল করুন। আমিন।

উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল (লিসান্স, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, সউদি আরব) দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদি আরব।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com