জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
ডায়াবেটিস রোগীর জন্য মধু ভালো না খারাপ, কী বলছে গবেষণা?

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য মধু ভালো না খারাপ, কী বলছে গবেষণা?

যুগ যুগান্তর ডেস্ক:
শরীর ও ত্বকের জন্য মধুর উপকারিতা সবারই জানা। প্রাচীনকাল থেকে খাদ্য ও ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে মধু। সর্দি-কাশি থেকে বিভিন্ন রোগের সমাধানে মধুর ভূমিকা অনেক বেশি। আবার অনেকে চিনির বিকল্প হিসেবে মধু খেয়ে থাকেন। চিনি বা গুড় অনেকের জন্য সমস্যা বাড়িয়ে তোলে, এজন্য মধু সেখানে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই কাজ করে।
তবে মধু খাওয়া নিয়ে ডায়াবেটিস রোগীদের মনে আছে সংশয়। মধু খাওয়া তাদের জন্য কতটুকু উপকারী তা নিয়েও রয়েছে বেশ কিছু বিতর্ক। বিশ্বে টাইপ-২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত অনেক রোগী রয়েছেন। এসব রোগীদের অধিকাংশ সময়ই মিষ্টি জাতীয় খাবার না খাওয়ার জন্য বলা হয়ে থাকে।

মধুতে ফ্রুকটোজ (ফলশর্করা) রয়েছে ৩৮ শতাংশ, গ্লুকোজ ১৭ শতাংশ, ম্যালটোজ ৭ শতাংশ এবং শর্করা ৪ শতাংশ। মধুতে থাকা সামান্য এই শর্করাও রেচন প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত গ্লুকোজে পরিণত হয়। এতে মধুর ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই গ্লুকোজে পরিণত হচ্ছে। খুব সামান্য প্রোটিন পাওয়া যায়। এটি ঘন শর্করা জাতীয় খাদ্য। অনেকে বলে থাকেন যে মধু মিষ্টি জাতীয় হলেও ডায়াবেটিস রোগীরা ইচ্ছা অনুযায়ী মধু খেতে পারেন।

মধুতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট
বর্তমানে আসল মধুর চেয়ে নকল মধুই বেশি বাজারে। চিনি মিশিয়ে তৈরি করা এসব মধু স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তবে খাঁটি মধুতে প্রতি এক চামচে ৬৪ ক্যালোরি এবং ১৭ গ্রাম চিনি থাকে। এছাড়াও এক চামচ মধুতে ১৭ গ্রাম পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট থাকে। সেই সঙ্গে প্রচুর ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে। কিন্তু এদের পরিমাণ খুব কম। তবে পুষ্টির বিপরীতে মধুকে বেছে নেয়া একদমই ঠিক হবে না।

জেনে রাখুন মধু-চিনির মধ্যকার পার্থক্য
চিনির পরিবর্তে মধুর ব্যবহার করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই পরীক্ষাটি ব্যাখ্যা করতে হবে। তবে এটা ঠিক যে, চিনি মধুর থেকে অনেক বিপজ্জনক, কেননা এতে কোনও ভিটামিন বা খনিজ থাকে না। তার অর্থ এই নয় যে মধু খাওয়া ঠিক আছে। মধুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) পরীক্ষায় দেখা গেছে মধুর জিআই স্কোর ৫৮ এবং চিনির জিআই স্কোর ৬০। যার অর্থ চিনি খেলে রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। তবে মধুতে এই হার কিছুটা কম। যারা ইনসুলিনের চিকিৎসা নেন তাদের জন্য মধু খাওয়া বিকল্প হতে পারে না। তারপরও মধু খেতে পারেন তবে তা পরিমাণ মতো খেতে হবে।

ডায়াবেটিসে রোগীরা মধু খেতে পারবেন ঠিক কিনা
বিশেষজ্ঞরা ডায়াবেটিস রোগীদের চিনি জাতীয় খাবার না খাওয়ার জন্য বলেন। তবে অনেকে বিকল্প হিসেবে মধু খাওয়ার কথা বলে থাকেন। যদি রোগী ইনসুলিন গ্রহণ করেন তাহলে তাকে প্রতিদিনের কার্বোহাইড্রেট সংখ্যার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবারের উপাদানের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। তা না হলে রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর তা ছাড়া টাইপ-২ রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতামত ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই বলা যায় না টাইপ-২ রোগীদের জন্য মধু উপকারী কিনা।

বিশেষজ্ঞদের গবেষণা এটাই বলছে যে, ডায়াবেটিস রোগীদের সীমিত পরিমাণে মধু খাওয়া যেতে পারে। তবে মধু খেতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে খাওয়া উচিত।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com