জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
জেলার সোহেল রানার মাসিক আয় ‘দেড় কোটি’

জেলার সোহেল রানার মাসিক আয় ‘দেড় কোটি’

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
ভৈরবে টাকার ঝুলি নিয়ে ধরা পড়া চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস ভৈরব রেলওয়ে পুলিশকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তার মাসে আয় ছিল কমসে কম দেড় কোটি টাকা।

জেলারকে আটকের পর দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ। তিনি জানান, জেলার জিজ্ঞাসাবাদে তার মাদকসেবন ও মাদক বিক্রিতে জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করেছেন।

পুলিশের ভাষ্যমতে, সোহেলের তথ্য মতে, কারাগারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের একটি অংশও মাদক সেবনে জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোহেল রানা মাদক বিক্রি করতেন কারাগারের ভেতরে। পেঁয়াজ, রসুন ও সবজির বস্তায় করে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নেয়া হতো কারাগারে। মাদক বিক্রির টাকা মাস শেষে কর্মীদের মধ্যে ভাগ হতো।

গত ২৭ অক্টোবর ভৈরব রেল স্টেশনে টাকার ঝুলি ও ফেনসিডিলসহ ধরা পড়েন জেলার সোহেল। তার কাছ থেকে নগদ পাওয়া যায় ৪৪ লাখ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের চেক-এফডিআরের কাগজপত্র নথিপত্র পাওয়া যায় আরও সাড়ে তিন কোটি টাকা।

ওই ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানার এসআই আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া মাদকদ্রব্য ও মানিলন্ডারিং আইনে দুটি মামলা করেন। এর মধ্যে মানিলন্ডারিং আইনের মামলাটি তদন্ত করবে দুদক এবং অপর মাদক আইনের মামলাটির তদন্ত করছে রেলওয়ে পুলিশ। রেলওয়ে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে কিশোরগঞ্জ বিচারিক আদালত-২ এর হাকিম ইকবাল মাহমুদ দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৩০ ও ৩১ অক্টোবর রিমান্ড শেষ করে আজ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে হোসেলকে।

পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ জানান, উদ্ধার করা টাকা বণ্টন শেষে ময়মনসিংহে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন সোহেল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বন্দিদেরকে জিম্মি করে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়েও টাকা সংগ্রহ করতেন জেলার। আর বন্দিরা টাকা দিলে বিনাশ্রম কারাদ- হয়ে যেত সশ্রম ও টাকা দিলে সশ্রম কারাদ-ে দ-িতদেরকেও কোনো কাজ করতে হতো না।

বন্দিদের যারা টাকা দিতেন তাদেরকে রাতে রাখা হতো হাসপাতালের বেডে। টাকা না দিলে একশ থেকে দেড়শ বন্দিকে একসঙ্গে রাখা হতো ১২ ফুটের একটি কক্ষে। জেলারের ভাষায় সেটাকে বলা হতো ‘ইলিশ বেড’।

জেলার সোহেল পুলিশকে আরও জানান, আগামী ৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করেও বাণিজ্য হয়েছে। কাদের মাধ্যমে কীভাবে টাকা আসবে সে তথ্যও দিয়েছেন তিনি।

কারাগারে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িতদের অনেকের নামও প্রকাশসহ আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন সোহেল-এ কথা জানালেও তদন্তের স্বার্থে এসব নাম আপাতত প্রকাশ না করার কথা জানান ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ।

জেলার সোহেলের কাছ থেকে পাওয়া নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং আড়াই কোটি টাকার বেশি চেক ও এফডিআর আদালতের অনুমতি সাপেক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া হবে বলে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com