জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ১৫ নভেম্বর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ১৫ নভেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক,
ফাইল ছবি

আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে। প্রথম দফায় ২ হাজার ২৬০ জনের একটি দলকে রাখাইনে ফিরিয়ে নেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার।

শনিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একথা জানান পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়পক্ষ ঠিক করেছে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে এই প্রথম প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তবে ১৫ নভেম্বর শুরু হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। আর প্রথম দফায় ২ হাজার ২৬০ জনকে মিয়ানমার ফিরিয়ে নিতে একমত হয়েছে।’
আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গতবছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও এই প্রথম প্রত্যাবাসন শুরুর একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা হলো।

ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের তৃতীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে দুই দেশ।

শহীদুল হক বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মিয়ানমারকে ২২ হাজার ৪৩২ জন রোহিঙ্গার নতুন তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে বাড়ি-ঘর তৈরির কাজে সহায়তা করছে ভারত ও চীন। ভারত সেখানে ২৮৫টি আর চীন ১ হাজার বাড়ি-ঘর তৈরি করেছে।’

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন এবং ফেরার পর নিরাপদ ও সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিন্ট থোয়ো।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ২২ হাজার ৪৩২ জন রোহিঙ্গার নতুন তালিকা হস্তান্তর করেছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ থেকে দেওয়া ৮ হাজার রোহিঙ্গার প্রথম তালিকা যাচাই করে তাদের স্বীকারও করেছে মিয়ানমার। কিন্তু সেই তালিকা স্বাক্ষরিত চুক্তিতেই থমকে যায়। নানা টালবাহনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে গড়িমসি করেই যায় মিয়ানমার।

এদিকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের তৃতীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের ইএনএইচসিআরের সঙ্গে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। শরণার্থী ইস্যু নিয়ে কাজ করা ইএনএইচসিআরের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তিতে খুবই অবাক হয়েছেন শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার। দ্যা গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এ সংবাদ নিয়ে পররাষ্ট্র সচিবকে প্রশ্ন রাখেন সাংবাদিকরা।
বলেন, ‘এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কোনো কারণ নেই। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ যুক্ত থাকবে। ঢাকায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রোহিঙ্গাদের যে তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে, সেই তালিকা একইদিন জাতিসংঘের শরণার্থী অফিসকেও হস্তান্তর করা হয়েছে।’
বিভিন্ন সময় নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে ছিল চার লাখের মতো রোহিঙ্গা। গত বছরের অগাস্টে রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর বাংলাদেশ সীমান্তে নামে রোহিঙ্গাদের ঢল।

জাতিসংঘের ভাষায় মিয়ানমারে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’র মুখে শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়েছে।
এই রোহিঙ্গারা রয়েছে কক্সবাজারের কয়েকটি আশ্রয় শিবিরে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় সেখান থেকে একটি অংশকে নোয়াখালীর ভাসানচরে সরিয়ে নিচ্ছে সরকার।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com