জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
প্রথম টেস্টের’ সামনে রাজনীতিক দুর্জয়

প্রথম টেস্টের’ সামনে রাজনীতিক দুর্জয়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জাতীয় টেস্ট ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়ের রাজনীতিবিদ হিসেবে ‘টেস্ট’ (পরীক্ষা) হতে পারে আগামী নির্বাচনে। ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের মুখে জাসদকে সহজেই হারিয়ে দেন। পাঁচ বছর পর এবার তিনি প্রস্তুত ভোটের লড়াইয়ের জন্য।

২২ গজে সাহসী ক্রিকেটার হিসেবেই পরিচিতি ছিল দুর্জয়ের। বহুবার পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাকে। এবার ভোটের আগে দুটি পরীক্ষায় নামতে হবে তাকে। প্রথমটি মনোনয়ন নিশ্চিতের, দ্বিতীয়টি ভোটের লড়াই।

দশম সংসদ নির্বাচনে দুর্জয় জিতলেও তাকে সেভাবে পরীক্ষা দিতে হয়নি। বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের কারণে জাসদের প্রার্থীকে হারাতে তাকে সে সময় বেগ পেতে হয়নি।

দুর্জয়কে মনোনয়নের লড়াইয়ে নামতে হবে এ কারণে যে, এই আসনে দলের সাবেক সংসদ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন নেতাই মনোনয়ন পাওয়ার আশায় এলাকায় সক্রিয়। আর একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকার কারণে পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও তোলা হচ্ছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী আব্দুস সালামও প্রার্থী হতে চাইছেন। তিনিও প্রচারে নেমেছেন, পোস্টার, ফেস্টুনে জানাচ্ছেন আগ্রহের কথা।

২০০৮ সালে জয়ী এবিএম আনোয়ারুল হকও আবার এলাকায় যাতায়াত বাড়িয়েছেন। একবার ভোটে জেতায় তিনি রাজনীতির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণাও রাখেন।

যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম জাহিদও প্রচার চালাচ্ছেন নির্বাচনী এলাকায়, বসিয়েছেন নানা প্রচারপত্র; সর্মথকদের নিয়ে যোগ দিচ্ছেন নানা অনুষ্ঠানে, অনুদান দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।

আগ্রহীদের আরেকজন আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির সদস্য ও মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুভাস সরকার।

এই সম্ভাব্য এই আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। যার যার মতো করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

তবে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী থাকাকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের মতো করে প্রস্তুত দুর্জয়। কেন তাকে আবার ভোট দেয়া উচিত, সেই যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি তুলে ধরছেন তার আমলের উন্নয়ন কাজ।

দুর্জয় সংসদ সদস্য থাকাকালেই নদী ভাঙন রোধে শিবালয়ের জাফরগঞ্জ-আরিচা যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ হয়েছে। দৌলতপুরের বাঁচামারা, চরকাটারী ও ঘিওরের ধলেশ্বরী নদীর তীরও বাঁধাই হয়েছে এই সময়ে।

এর বাইরে দুটি কলেজ ও দুটি স্কুল হয়েছে সরকারি, নির্মাণ হয়েছে যুব কমপ্লেক্স ভবন, অসংখ্য সেতু কালভার্ট। তিন উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অনেক স্কুল, কলেজে বহুতল ভবন নির্মাণ, যমুনার দুর্গম চরে সোলার প্ল্যান্ট নির্মাণ হয়েছে।

সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে ক্রীড়ার উন্নয়নেও চেষ্টা আছে দুর্জয়ের। পাটুরিয়ায় পদ্মার পারে নির্মাণ হতে যাচ্ছে ক্রিকেট স্টেডিয়াম, পাটুরিয়া সড়কের পাশে হাইটেক পার্কের সম্ভাব্য স্থানও নির্ধারণ হয়েছে। এসব কারণে তিনি আশাবাদী আবার জিতবেন।

ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-১ আসনটিতে বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন নির্বাচন করতেন।

জিতেছেন বারবার। তবে ২০০৮ সালে নৌকা প্রতীকে এবিএম আনোয়ারুল হক জিতে চমক দেখান। তবে পরের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাননি। ওই নির্বাচনেই জিতে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দুর্জয়।

বিএনপিতে কারা?

আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিতেও আছেন একাধিক প্রার্থী। আর দলের ভেতর কোন্দল মাথাচাড়া দিয়েছে ২০১৬ সালে খোন্দকার দেলোয়ারের মৃত্যুর পর থেকেই দলে বিভক্তি স্পষ্ট হয়।

এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী পাঁচজন। এদের দুইজন প্রয়াত নেতার দুই ছেলে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খোন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলু ও বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু।

জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতাও এখানে মনোনয়ন চান। তার সঙ্গে দেলোয়ারপুত্রদের দ্বন্দ্ব আর গোপন নয়। এই বিভেদ তারা পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে। খোন্দকার দেলোয়ার এবং রিতার বাবা হারুণার রশীদ খান মুন্নুর মধ্যেও ছিল বিরোধ।

এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্যরা হলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এসএ জিন্নাহ কবীর এবং দৌলতপুর উপজেলার চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক তোজা।

এই আসন থেকে তোজা এর আগেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। তবে সফল হতে পারেননি।

অতীতে যারা জিতেছেন

১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এ এম সায়েদুর রহমান। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। ১৯৮৬ ও ৮৮ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বর্জনের মুখে জেতেন জাতীয় পার্টির সিদ্দিকুর রহমান।

এরপর থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন এবং ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আবার জেতেন দেলোয়ার। কিন্তু এবার বিএনপি ভোটে এলেও প্রার্থী পাল্টাতে হবে। কারণ, সাবেক মহাসচিব আর বেঁচে নেই।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com