জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
উদ্ধারে মরিয়া বিএনপি, চোখ জামায়াতেরও

উদ্ধারে মরিয়া বিএনপি, চোখ জামায়াতেরও

লক্ষ্মীপুরপ্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর সদর আসনটি বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। দশম সংসদ নির্বাচনে তারা না আসার সুযোগে সেটি দখল করে নেয় আওয়ামী লীগ। আর এবার সেটি ফিরে পেতে তৎপর বিএনপি। তাদের শরিক জামায়াতও আসনটিতে তৎপর। তারা হতে চায় ২০ দলের প্রার্থী।

আসনটি থেকে আওয়ামী লীগের ডজন খানেক নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে দলে জমা দিয়েছেন। বিএনপিতেও আছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী একাধিক নেতা। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছেন জামায়াত নেতা আনোয়ারুল অজিম।
আবার বিএনপির আরেক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডিও আসনটিতে নির্বাচন করতে চাইছে। তারাও চায় বিএনপি নিজে প্রার্থী না দিয়ে সমর্থক দিক।

জেএসডি এখানে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছে বেলায়েত হোসেন বেলালকে। তাকে জোটের প্রার্থী করতে ঢাকায় চলছে দেন দরবার।
জাতীয় পার্টির নেতা এম আর মাসুদও ভোটে দাঁড়াতে চান, তবে আওয়ামী লীগের জোট থেকে তার সমর্থন পাওয়া কঠিন।

১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে এখান থেকে জিতেন আওয়ামী লীগের এ কে এম শাহজাহান কামাল। আর ১৯৭৯ সালে জয় পান জামায়াত নেতা মাস্টার সফিক উল্যাহ।

এরপর যতবার বিএনপি ভোটে এসেছে, ততবার জয় পেয়েছে তারাই। পঞ্চম ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনে এখান থেকে ধানের শীষ নিয়ে জেতেন খায়রুল এনাম। ষষ্ঠ সংসদ র্নিবাচনে জয় পান নুরুল আমিন। অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।

মাঝে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকলে ১৯৮৬ সালে এখান থেকে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ উল্যাহ জেতেন। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। আর ২০১৪ সালে বিএনপির ভোট বর্জনের বছর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতেন ৭৩ এর জয়ী সংসদ সদস্য একে এম শাহজাহান কামাল। এবার তিনি বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী হয়েছেন।

এবার ক্ষমতাসীন দল থেকে প্রার্থী হওয়ার বাসনায় ফরম তুলেছেন ডজনখানেক নেতা। শাহজাহান কামাল ছাড়াও আছেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ চাত্তার, সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেম, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহের, সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ আলাউদ্দিন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সালাউদ্দিন টিপুম জেলা পরিষদের সদস্য বদরুল আলম শ্যামল।

সব নেতাই ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে কেন্দ্র কমিটি গঠনও প্রায় শেষ পর্যায়ে। নেতারা বলছেন, তাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, দ্বন্দ্ব নেই। যিনিই মনোনয়ন পান, সুফল পাবেন তিনিই।

মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিয়া গোলাম ফারুক পিংকু ও সজিব গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাসেম নিজেদের দুর্দিনের কর্মী বলে দাবি করেন। বলেন, আগের চেয়ে এলাকায় আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী। পাশাপাশি ব্যাপক উন্নয়নও হয়েছে। তাই এখানে এবার জয় পাবে নৌকার প্রার্থী।

পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি

আসনটি আবার নিজের করে নিতে কাজ করছে বিএনপি। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ছাড়াও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবুও এখান থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন।

এ্যানী ঢাকা টাইমসকে বনে, ‘সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হলে বিএনপি ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবে। কেবল এখানে নয়, সারা দেশেই এই চিত্র। ফলে সরকার গঠন করবে বিএনপি।’

সাহাব উদ্দিন সাবু বলেন, ‘আমি সব সময় মাঠে আছি এবং ছিলাম। তৃণমূল থেকে দায়িত্ব পালন করে জেলা সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছি। ২০১৩ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনেও মাঠে নেতৃত্ব দিয়েছি। এ সময় গুলিতে আমি মারাত্মক আহত হই। ১/১১র পরও বিনা অপরাধে দীর্ঘদিন কারাবাস করি। দলীয় নেত্রীর কাছে আমার অনুরোধ থাকবে আমাকে যেন প্রতীক দেয়া হয়।

সক্রিয় জামায়াত

নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত আছেন জামায়াতও। তবে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলটির প্রার্থী ভোট করতে চান স্বতন্ত্র হিসেবে।

জামায়াত নেতা আনোয়ারুল আজিম রিটানির্ং কর্মকর্তার কাছ থেকে এরই মধ্যে মনোনয়ন ফরম নিয়েছে।

ঢাকা টাইমসকে আজিম বলেন, ‘এই আসনে আমাদের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। সুষ্ঠুভোট হলে বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com