জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
১০ হাজার টাকায় শাশুড়িকে হত্যায় জামাতা

১০ হাজার টাকায় শাশুড়িকে হত্যায় জামাতা

নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাভারের আশুলিয়ায় বাস থেকে ফেলে জরিনা খাতুনকে হত্যার মোটিভ ঘুরে গেছে নাটকীয়ভাবে। স্থানীয় ছিনতাইকারী বা দুর্বৃত্তরা নয়, এই খুনের জন্য দায়ী নিহতেরই মেয়ের জামাই নুর ইসলাম। যিনি নিজেই শাশুড়ির মরদেহ উদ্ধারের পর বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানতে পেরেছে, পারিবারিক কলহের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। আর বাস থেকে ফেলে শাশুড়িকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তারই জামাই নুর ইসলাম। এজন্য বাসচালকের সঙ্গে দশ হাজার টাকায় চুক্তি করেন তিনি।
এই অভিযোগে মেয়ের জামাই নুর ইসলাম, জামাইয়ের মা আমেনা বেগম ও মামা মো. স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাটি। তবে অভিযুক্ত বাসচালক ও তার তিন সহযোগীকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ঘটনার এক সপ্তাহ পর শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।
গত ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় আশুলিয়ায় টাঙ্গাইলগামী একটি বাস থেকে ফেলে হত্যা করা হয় জরিনা খাতুনকে। এ সময় বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল তার বাবা ৭০ বছরের বৃদ্ধ আকবর আলী মণ্ডলকেও। আকবর আলীর কাছে খবর পেয়ে সেই রাতে মরাগাঙ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের পাশ থেকে তার মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পরের দিন তার মেয়ের জামাই নুর ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলাটি করেন। অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে।
পিবিআই প্রধান জানান, নিহত জরিনার মেয়ে রোজিনার সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর আগে নুর ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে মেয়ের প্রায়ই বিরোধ হত। সম্প্রতি এই বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করে। বিষয়টি জামাই বুঝতে পেরে শাশুড়িকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তার মা ও মামাকে নিয়ে।
তিনি জানান, সম্প্রতি আশুলিয়ার গাজিরচট এলাকায় মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন জরিনা ও তার বৃদ্ধ বাবা আকবর আলী মণ্ডল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের চৌহালিতে নিজের বাড়িতে ফেরার পথে আশুলিয়ার ইউনিক এলাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী একটি বাসে উঠিয়ে দেন তার জামাই। বাসটি বিভিন্ন স্থান ঘুরে আবার আশুলিয়ার দিকে ফিরে আসে। জরিনাকে বাসে রেখে প্রথমে বৃদ্ধ বাবাকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। পরে মরাগাঙ এলাকায় নিয়ে জরিনাকেও ফেলে দেওয়া হয়। বাবার কাছে খবর পেয়ে রাস্তার পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পিবিআই কর্মকর্তা জানান, এজন্য খুনিদের সঙ্গে ১০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়। বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক-হেলপারসহ চারজনকে খোঁজা হচ্ছে।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com