জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
প্রাণনাশের কারণ হতে পারে চোরাবালি!

প্রাণনাশের কারণ হতে পারে চোরাবালি!

যুগ-যুগান্তর ডেস্ক :
একটু ভাবুন তো, আপনি এ রকম কতটি সিনেমা দেখেছেন, যেখানে নায়ক চোরাবালির মধ্যে পড়েছে, আর ঠিক শেষ মুহূর্তে হয়তো গাছের ডাল ধরে কিংবা অন্য কোন উপায় বের হয়ে আসে। সিনেমাতে যদি নাও দেখে থাকেন, গল্পে চোরাবালির কথা পরেননি বা অন্তত শুনেনি, এমন কাউকে হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না।
তবে সিনেমাতে দেখে থাকা চোরাবালির দৃশ্যকে সত্যি ভেবে বসলে হয়তো কারো কাছে এটিকে কোনো মারাত্মক গহ্বর মনে হতে পারে । কিন্তু বাস্তবে চোরাবালির গভীরতা কয়েক ফুটের বেশি হয় না । বলা বাহুল্য এই কয়েক ফুট গভীরতাই যে কারো মনে মৃত্যু শঙ্কা তৈরি করার জন্য যথেষ্ট । আপনি যদি কখনো চোরাবালিতে পরেও যান, সেখানে কেউ কিন্তু আপনাকে ভিতরের দিকে টেনে নিয়ে যাবে না । চোরাবালিতে তলিয়ে যাওয়ার কাজটি করবেন আপনি নিজেই।

অদ্ভুত মনে হচ্ছে ব্যাপারটা। তাই না ? চোরাবালি কি? চোরাবালি আসলে সাধারণ বালির মতই এক ধরনের বালি । কিন্তু সাধারণ বালির সঙ্গে এর একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্য হল, এই বালি পানি দ্বারা অতি মাত্রায় সম্পৃক্ত থাকে। অর্থাৎ ভেজা ভেজা থাকে। আমরা যখন সাধারণ বালির ওপরে দাঁড়াই তখন পা কিছুটা ভিতরে ঢুকে গেলও কিন্তু পুরোপুরি ভেতরে যায় না । কারণ বালিতে থাকা ঘর্ষণ বল আমাদেরকে তলিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।

অন্যদিকে পানি দ্বারা প্রচুর পরিমাণে ভেজা থাকায় চোরাবালিতে এই বল সাধারণের তুলনায় অনেক কমে যায়। এর ফলে পানি ও মাটি মিশ্রিত হয়ে সুপের মত হয়ে যায়। যখন পানির ঝরঝরে আলগা বালির মধ্যে আটকা পড়ে, তখনই এটি তরল আকৃতির মাটি তৈরি করে । ফলে এই মাটি কোনো ধরনের ভার বহন করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আর এ রকম প্রাকৃতিক কারণেই মূলত তৈরি হয় চোরাবালি নামক ফাঁদের। চোরাবালি থেকে বাচার উপায়, চলচ্চিত্রে দেখা চোরাবালির দৃশ্যকে সম্পূর্ণ সত্যি মনে করে আপনি হয়তো ধরেই নিয়েছেন যে এর থেকে পরিত্রাণের কোনো সহজ উপায় নেই।

আবার কেউ হয়তো এর থেকে ভয়াবহ কিছু ভাবছেন। কল্পনা করছেন মৃত্যুরও। কিন্তু বাস্তবে এমনটা হওয়ার সুযোগ অনেক কম, যদি আপনি নিজে শান্ত থাকেন। চোরাবালিতে পানি আর বালুর যে সুপ তৈরি হয়, অনেক সময় প্রাথমিকভাবে দেখে বোঝা খুবই কঠিন। চোরাবালিতে পানি নিচের দিকে চুষানোর কারণে এর উপরের অংশ কখনো কখনো সাধারণ বালির মতো দেখায়। আবার মাঝে মাঝে সাধারণ কাদা মনে হতে পারে অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রে এমন হয়েছে সেটার উপর পা রাখার আগে পর্যন্ত কেউ বুঝতেই পারবে না সে চোরাবালিতে যাচ্ছে। আপনি যদি ঘটনাক্রমে চোরাবালিতে পড়েও যান, তাহলে আপনার প্রথম কাজটি হবে আতঙ্কিত না হওয়ার। আগেই বলেছি চোরা বালি কয়েক ফুটের বেশি গভীর হয় না । তাই চোরাবালিতে পড়ে গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনার জুতা হারানোর সম্ভাবনাই বেশি।

চোরাবালির ফাঁদে পরলে যে কয়টি ব্যাপার মনে রাখবেন, তা হল- আপনি মারা যাচ্ছে না, এটা নিশ্চিত। আপনি যতটা বল প্রয়োগ করবেন, ততই ফেঁসে যাবেন। তাই নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। কখনই হাত পা ছোড়ার চেষ্টা করবেন না। এই কাজ করলে আপনি শুধু একটাই সাফল্য পাবেন, আর সেটা হচ্ছে আপনি নিজেকে চোরাবালির আরো গভীরে নিয়ে যাবেন। মানবদেহের ঘনত্ব প্রতি ঘনফুটে ৬২.৪ পাউন্ড, আর এই ঘনত্ব নিয়েই আমরা অনায়াসে পানিতে ভেসে থাকতে পারি। অন্যদিকে চোরাবালির ঘনত্ব প্রতি ঘনফুটে ১২৫ পাউন্ড। তার মানে বুঝতেই পারছেন পানির থেকেও অনেক সহজে ভেসে থাকা যাবে চোরাবালিতে।

এখন তাহলে চোরাবালি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার পদ্ধতিটি জানা যাক। প্রথমত আপনার কাঁধে কোনো ব্যাগ থাকলে তা খুলে ফেলার চেষ্টা করুন। আপনার ভর যতটা কমবে ততটা ভালো। একই সঙ্গে চেষ্টা করুন পায়ের জুতো খুলে ফেলতে। জুতা থাকলে সেটা আংটার মত কাজ করতে পারে এবং আপনাকে চোরাবালি থেকে বের হতে একটু বেশি কষ্ট করতে হতে পারে। অবশ্য পায়ের জুতা খুলে ফেলা সম্ভব না হলেও নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। একটু বেশি পরিশ্রম করতে হবে, এই যা ।

প্রসঙ্গত একটা কথা বলে রাখা ভাল, চোরাবালিতে পুরো শরীর না নিয়ে, যদি কখনো এক পা পরে যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পিছনের দিকে ফিরে আসুন। চোরাবালি প্রায় এক মিনিট সময় নেয় তরলিত হওয়ার জন্য। আপনি সচেতন থাকলে নিজের পা’কে ওই সময়ের মধ্যে বের করে নিয়ে আসতে পারবেন। আর আপনি যদি চোরাবালিতে পুরো দেহ নিয়েই পরে যান, তাহলে আরো কিছু কাঠ খড় পোড়াতে হবে ।

চলুন অন্য একটা উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বুঝতে চেষ্টা করি। ধরুন, আপনি চরাবালিতে না পরে একটা বিশাল বড় পুকুরে পড়ে গেছেন, তখন আপনি কি করবেন? সাঁতরে পাড়ে ওঠার চেষ্টা করবেন। অবশ্যই একই কাজ করতে হবে চোরাবালির ক্ষেত্রেও। দেহকে আনুভূমিক করে পিঠের উপর ভর দেয়ার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শরীরের ভর সমানভাবে বণ্টন হবে। এর ফলে আপনি সহজে ভেসে থাকতে পারবেন। এরপর মূলত আপনাকে চিৎ সাঁতার দিতে হবে । নিজের পা দুটোকে ঝাঁপিয়ে পায়ে লেগে থাকা বালিগুলোকে আলগা করার চেষ্টা করুন এবং ধীরে ধীরে সেগুলোকে উপরে নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। সাতারে যেভাবে হাতকে কাজে লাগান, সেভাবে এখানেও চেষ্টা করুন । তবে সাবধান নিজের হাত দুটিকে ডুবিয়ে একসঙ্গে করবেন না। তাহলে হাত ও আবার চোরাবালিতে আটকে যেতে পারে ।

এভাবে সাঁতারে আপনি যখন একটু শক্ত মাটির নাগাল পাবেন, তখন সেই মাটিতে ভর দিয়ে নিজেকে টেনে বের করে নিয়ে আসুন। তাহলে কি চোরাবালিতে একদমই ভয় পাবেন না? চোরাবালি যে একদমই অহিংস, এমন কথা বলা যাবে না। আবার যে অত্যন্ত বিপদজনক, এই কথাও বলা যাবে না । নিজের নোংরা হওয়া জুতা বা কাঁধের ব্যাগ হারানোর থেকে তেমন কোনো কিছু হওয়ার সম্ভাবনা এতে নেই।

কিন্তু ব্যাপারটা মারাত্মক হতে পারে এতে আটকা পড়ার জায়গার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। চোরাবালিতে আটকা পড়ার পর মৃত্যুর খবর শোনা যায় না, এমনও বলা যাবে না। সমুদ্রের তীরে চোরাবালিতে আটকে পড়ে পরবর্তীতে সমুদ্র ঢেউ এর কারণে মারা যাওয়ার ঘটনাও শোনা গেছে। আবার জন-মানবহীন জায়গায় চোরাবালিতে আটকে পড়ে যদি নিজেকে কেউ ওপরে তুলে আনতে ব্যর্থ হন, তাহলে একে যথেষ্ট বিপদজনক বলে মনে হবে।

তাই বলা যায়, মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করলে আপনার তেমন কোনো ক্ষতি হবে না চোরাবালিতে। এবারে আপনাদের কে একটু চমকে দেয়া যাক। চোরাবালি যে পানি আর বালির সংমিশনেই হবে। এমন বাধ্যবাধকতা নেই । চোরাবালি শুষ্ক ও হতে পারে । শুষ্ক চোরোবালি তখনই তৈরি হয়, যখন বালুকনা অত্যন্ত হালকা গঠন তৈরি করে। আর এমন পরিস্থিতি হয় যে, এটি খুব কম সময় নিজের ভর ধরে রাখতে পারে।

তাহলে ভাবুন, আপনি পড়ে গেলে কি হবে? তাসের ঘরের মতো যেভাবে পলকের মধ্যেই ভেঙে যায়, ঠিক সেভাবেই পলকের মধ্যেই বালুর ভেতরে হারিয়ে যাবেন আপনি। এখন মনে মনে আপনি হয়তো ভাবছেন, তাহলে চোরাবালিকে বিপদজনক বলব না কেন? সৌভাগ্যবশত শুষ্ক চোরাবালির অস্তিত্ব গবেষণাগার ছাড়া প্রকৃতিতে পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীরা বিশেষ পদ্ধতির বালুর মধ্য দিয়ে বায়ু প্রবাহিত করার মাধ্যমে শুষ্ক চোরাবালি তৈরি করেন। তবে বিজ্ঞানীরা শুষ্ক চোরাবালির অস্তিত্ব একেবারেই নাকচ করে দেননি। তবে কখনো যদি এর অস্তিত্ব পাওয়া যায় তখন ভাগ্যের উপর ভরসা করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com