জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
দক্ষ খামারি আব্দুর রশীদ

দক্ষ খামারি আব্দুর রশীদ

রংপুর প্রতিনিধি :
নেই প্রশিক্ষণ, অন্যের দেখে আর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অবসর প্রাপ্ত পুলিশ কন্সটেবল আব্দুর রশীদ (৬০) হয়ে উঠেছেন একজন দক্ষ খামারি। এখন তার অবসর সময় কাটে ছাগলের পরিচর্যা করে। শখের বশে কেনা ১টি ছাগল দিয়ে গত ৮ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। এরইমধ্যে ছাগল বিক্রি করেছেন প্রায় ৫ লাখ টাকার। প্রতি ঈদে ছাগল বিক্রি করেও বর্তমানে ছোট বড় মিলে তার ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল আছে ৪৩টি। নগরীর রাধাবল্লভ এলাকায় ভাড়া বাড়িতে রশীদ গড়ে তুলেছেন এই ছাগলের খামার ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে রংপুর নগরীর নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে অবসর গ্রহণ করেন আব্দুর রশীদ। চাকুতিতে থাকাকালীন তিনি রাতে দায়িত্ব পালন করছেন হাইওয়েতে। তাই দিনের বেলা অনেক সময় হাতে থাকায় কোন কাজ থাকতো না। এই চিন্তা থেকে ২০১১ সালে ১টি ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের বাচ্চা ৭শ টাকা দিয়ে ক্রয় করেন। তখন থেকে চাকুরির পাশাপাশি দিনের বেলা ছাগলের পরিচর্যা করতেন। মাঝে মাঝে আশেপাশের খোলা মাঠে কিছু সময়ের জন্য ছাগলের পাল বের করেন।

তার স্ত্রী ও দুই সন্তানও ছাগল পালনে যথেষ্ঠ সহযোগিতা করেন। এভাবে ছাগলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে প্রথম দিকে ছাগল লালন পালনে তাকে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ছাগলের অসুখ হলেই সরণাপন্ন হতে হতো সদর ভেটরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে।

রাধাবল্লভে অবস্থিত ডায়াবেটিক সমিতির মাঠে ছাগলগুলোকে ঘাস খাওনোর সময় আব্দুর রশীদ ছাগল পালনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রথম দিকে ছাগল পোষা শখ ছিলো। শখ এখন নেশায় পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে তার বেশকিছু ছাগল চুরি হয়েছে আর অসুখেও মারা গেছে কিছু। একটু যত্ম নিলে এখান থেকে বাড়তি আয় করা সম্ভব। একমাস আগে ৪টি খাসী ছাগল ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। ৬ মাসের মধ্যে একটি ছাগল বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠে।

আব্দুর রশীদ বলেন, ছাগলের রোগ বালাই বলতে সর্দি জ্বর এবং পাতলা পায়খানা। দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা থেকে এখন কোন ছাগলের অসুখ হলেই আগে থেকে তা তিনি বুঝতে পারেন। সময় মতো অষুধ খাওয়ালেই রোগাক্রান্ত ছাগল ভাল হয়ে যায়। তার অভিযোগ ছাগলের খাদ্য গমের ভুসির দাম বেশি হওয়ায় ছাগল লালন পালনের খরচ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন তার ছাগলের জন্য প্রায় ৮ কেজি ভুসি লাগে । ৩৭ কেজির ভুসির বস্তা কিনতে তার ব্যয় হয় ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ১শ টাকা। যদি ছাগল বেধে না রেখে ছেড়ে দিয়ে পালন করা যেত তাহলে তোলা খাবার কম লাগতো। কিন্তু বর্তমানে ছাগলের যে দাম ছেড়ে দিয়ে চোখের আড়াল হলেই সেটি চুরির আশংকাই থাকে বেশি । তারপরও নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সংসারে যে কোন আর্থিক সংকটে অনেকবার ছাগল বিক্রির টাকা দিয়ে পরিত্রাণ পেয়েছেন।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com