জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
রেকর্ডময় ম্যাচটাকে স্মরণীয় করে রাখলেন সাকিব

রেকর্ডময় ম্যাচটাকে স্মরণীয় করে রাখলেন সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

তাকে নিয়ে বাংলাদেশের আপামর এক শ্রেণীর মানুষের সমালোচনার শেষ নেই। সাকিব কোনো ম্যাচে খারাপ খেললেই সেই গোষ্ঠী ঢাল তলোয়ার নিয়ে নেমে পড়েন সাকিবকে সমালোচনা করতে। একজন খেলোয়াড়ের জন্য এ সমালোচনাগুলো যে তাদেরকে আরো ভালো করার তাগিদ দেয় সেই জিনিসটা বোধহয় ওই গণ্ডমূর্খ মানুষ বুঝে উঠতে পারেন না। আরো একবার বড় মঞ্চে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হিসেবে খ্যাত সাকিব জ্বলে উঠলেন পাশাপাশি বাংলাদেশকেও জ্বলতে সাহায্য করলেন। ব্যাটে বলে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে নিজে তো ওভাল স্টেডিয়ামের ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রেখেছেনই উপরন্তু বাংলাদেশকেও দিয়েছেন এবারের বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচেই প্রথম জয়ের স্বাদ।
গেল ৩-৪ মাস বেশ ভালো যায়নি সাকিবের। হাতের ইনজুরি থেকে সুস্থ হয়ে আইপিএল খেলতে চলে যান এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সেখানে গিয়েও প্রায় ম্যাচেই বসে থাকতে হয় তাকে। তার আইপিএলে যাওয়া নিয়েও কম সমালোচনা পেতে হয়নি তাকে। আইপিএল থেকে ফিরেই যোগ দেন বাংলাদেশের ট্রাই নেশন সিরিজের স্কোয়াডে। এখানে এসে নিজেকে কিছুটা ঝালাই করে নেন। বিশ্বকাপের আগেই সেই ঝালাইয়ের সুসংবাদ পান আবারো আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ স্থান দখল করার মাধ্যমে।

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের তকমা নিয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই বাজিমাত করলেন তিনি। তবে এই বিজয়গাঁথার যাত্রাটা সুখকর ছিল না। তামিম–সৌম্যের উদ্বোধনী জুটিতে ৬০ রান যোগ করার পর ফেহলুকায়োর শিকারে পরিণত হন তামিম। এরপরেই ক্রিজে আসেন সাকিব। সৌম্যের সঙ্গে ১৬ রানের জুটি করার পর দলীয় ৭৫ রানে সৌম্যের আউটের পর কিছুটা বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

সেখান থেকেই দলকে টেনে তোলার হাল ধরেন সাকিব এবং মুশফিক। দক্ষিণ আফ্রিকার গতিময় পেসার এবং ইমরান তাহিরের মত উইকেট টেকিং স্পিনারদের বিরুদ্ধে দেখে শুনে খেলতে থাকেন তারা দুজনেই। ৩২ ওভারে দলকে ২০০ পার করান এ দুই ব্যাটসম্যান। এর ভেতর ৫৪ বলে নিজের ৪৩তম ওয়ানডে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব। প্রোটিয়া পেসারদের দেখে শুনে সিঙ্গেলস নিয়ে তাদেরকে ব্যতিব্যস্ত রাখেন মুশফিক এবং সাকিব। মুশফিকও হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। তবে দলের যখন তাকে খুব বেশি দরকার সেই সময়ে ৩৬তম ওভারে ৭৫ রান করে ইমরান তাহিরের বল সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড আউট হয়ে যান সাকিব। ৮৪ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কা হাকান এই বা হাতি ব্যাটসম্যান। আরো একটি সম্ভাবনাময় ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে মাঝপথে এসে। সাকিবের ওই ইনিংসের পর বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায়। একসময় মনে হয়েছিল বাংলাদেশ খুব সহজেই ৩৫০ এর বেশি রান করবে। কিন্তু সাকিব এবং পরবর্তীতে মুশফিকও ৭৮ রান করে আউট হলে কিছুটা বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা। কিন্তু শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৩৩ বলে ৪৬ এবং মোসাদ্দেকের ২০ বলে ২৬ বাংলাদেশকে দেয় ৩৩০ রানের লড়াকু পুঁজি।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে ৩৩০ রান টপকে কখনোই কোন দল ম্যাচ জিততে পারেনি। তাই সাকিবরা এই রান নিয়ে কিছুটা নির্ভারই ছিল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকাকে হ্যালাফ্যালা করলে বিপদ যেকোন সময় আসতে পারে। তাই তাদেরকে কোনরকম ছাড় দিতে নারাজ টাইগার অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।

ম্যাচের ১১ তম ওভারে সাকিবকে বোলিংয়ে আনেন মাশরাফী। ততক্ষণে প্রোটিয়াদের উইকেট নেই একটি। দলীয় রান ৫১। প্রথম ওভারে মাত্র ১ রান দেন বা হাতি অফ স্পিনার। কিন্তু সাফল্য পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয় নিজের ৫ম ওভার পর্যন্ত।

স্পিনে কিছুটা দুর্বল ওপেনার এডুইন মারকারমকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান সাকিব। এরই সঙ্গে একটি অনবদ্য রেকর্ডের মালিকও বনে যান তিনি। যেটার ধারেকাছেও কেউ নেই। ২৫০ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ওয়ানডেতে সাকিবের রয়েছে ৫ হাজারেরও বেশি রান। সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে ২৫০+ উইকেট এবং ৫ হাজারের বেশি রান করার রেকর্ডের মালিক সাকিব। তিনি নিজের ১৯৯তম ওয়ানডে ম্যাচে এসে এই কৃতিত্ব গড়লেন। তার আগে পাকিস্তানের আবদুর রাজ্জাক করেছেন ২৫৮ ম্যাচে, শহীদ আফ্রিদি করেছেন ২৭৩ ম্যাচে, জ্যাক ক্যালিস করেছেন ২৯৬ ম্যাচে এবং সনাথ জয়সুরিয়া করেছেন ৩০৪ তম ম্যাচে এসে।

সাকিবের এমন অনবদ্য দারুণ পারফরম্যান্সের দিনেও যদি বাংলাদেশ হেরে যেত তাহলে এটা তার প্রতি প্রচুর অন্যায়ই করা হতো। সাকিবের এমন সাফল্যকে ম্লান হতে দেননি বাংলাদেশের অন্যান্য বোলাররা। প্রোটিয়ারা পুরো ৫০ ওভার খেলে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩০৯ রানের বেশি করতে পারেনি। মূলত শেষ দশ ওভারে বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ব্রেক থ্রু দেয়ার মাধ্যমেই এমন অসাধারন জয় ধরা দিয়েছে। দিন শেষে বাংলাদেশের এমন জয়কে অনেক ক্রিকেট বোদ্ধাই অপ্রত্যাশিত বলতে চাইছেন। কিন্তু ব্যাটে বলে প্রোটিয়াদের থেকে সেরা হয়েই ম্যাচটি নিজেদের করে নিয়েছে।

ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার নিতে এসে সাকিবও বললেন ফেবারিট হিসেবেই ম্যাচটি জিতেছে বাংলাদেশ। ‘আমাদের সেরা জয়গুলোর ভেতর এটি অবশ্যই থাকবে। আমরা কিছু দলের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছি কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে আমরা এসেছি কিছু প্রমাণ করার জন্যেই। আজকের মত ভালো শুরু আর হতে পারে না। এখানে আসার আগে আমাদের মনে বিশ্বাস ছিল। আমাদের প্রয়োজন ছিল এমন শুরু। আমি দুই বছর ওরচেস্টারশায়ারের হয়ে খেলেছি তাই আমার এখানকার আবহাওয়া সম্পর্কে মোটামুটি ভালো জানা আছে। আমরা ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও এখানে খেলেছি তাই উইকেট সম্পর্কেও ধারণা রয়েছে। আমি এবং মুশফিক দুজনেই ভালো শুরু করেছিলাম ওপেনিংয়ে ভালো একটি শুরু পর। আমাদের আত্মবিশ্বাস এখন অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে আছে, পরবর্তী ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এ মাঠেই হবে। তারা খুবই শক্ত প্রতিপক্ষ। সেই ম্যাচটির জন্য আমরা মুখিয়ে আছি।

সাকিব আল হাসান ছাড়াও এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে অবদান রেখেছেন অনেকেই। প্রথম সৌম্য এবং তামিমের উদ্বোধনী ৬০ রানের জুটি বড় রানের ভিত গড়ে দেয়। সৌম্য ৩০ বলে ৪২ রান করেন। মুশফিকও ৭৮ রান করে দলের বড় স্কোরে সহায়তা করেন।

বোলারদের কাজটা ছিল সবচেয়ে কঠিন। সেই কঠিন কাজটি ভালোভাবেই সামলেছে বাংলাদেশ। ডি কককে বিধ্বংসী হওয়ার আগেই ২৩ রানে রানআউট করে ফেরান মুশফিক। মাঝের ওভারে ডু প্লেসিস যখন বাংলাদেশি বোলারদের উপর চড়াও হচ্ছিল তখনই আঘাত হানেন মিরাজ। তার স্পিন ঘূর্ণিতে বোকা বনে বোল্ড হন ৬২ রান করা ডু প্লেসিস। এরপরের দিকে মোস্তাফিজের কাটার এবং সাইফউদ্দিনের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন প্রোটিয়ারা। বোলিংয়ে ১০ ওভারে ৬৭ রান দিলেও মূল্যবান ৩টি উইকেট নেন মোস্তাফিজ। সাইফুউদ্দিন নেন ২ উইকেট।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com