জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
দক্ষিণ আফ্রিকার কাল হয়ে ছিলেন রোহিত

দক্ষিণ আফ্রিকার কাল হয়ে ছিলেন রোহিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপের দলগুলোর খেলার সময়সূচি প্রকাশের পর থেকেই নিন্দুকেরা বলে আসছিল বিশ্বকাপে একটু বিশেষ সুবিধাই পাচ্ছে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নামার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার প্রাক্বালে এটা শিকারও করেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। যেখানে দলগুলো ১-২টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে বিশ্বকাপের প্রথম ৬ দিনে। সেখানে ৬ দিন পর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ভারত খেলতে নামে বিশ্বকাপের তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। আর নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তি সামর্থ্যের জানান দিল ভারত কেন তাদের এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার বলা হয়। টানা দুই ম্যাচ হারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে তৃতীয় হারের স্বাদ দিল বিরাট কোহলির দল। প্রোটিয়াদের তারা হারিয়েছে ৭ উইকেটের ব্যবধানে।
বোলারদের দারুণ নৈপুণ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে মাত্র ২২৭ রানেই আটকে ফেলে ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বেশ কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় ভারতকে। বিশেষ করে রাবাদার গতিময় পেস বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে বেগ পেতে হয় ভারতীয় ওপেনারকে। স্টেইন ও লুঙ্গির অবর্তমানে পেস বোলিং লাইন আপ সামলানোর দায়িত্ব পান ফেহলুকায়ো, রাবাদা ও মরিস। রাবাদা তার প্রথম ওভারেই ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন দুই ওপেনারকে। রাবাদার দ্রুত গতির বল ধাওয়ানের গ্লভসে লাগলেও তা ক্যাচ ধরতে পারেনি প্রোটিয়া ফিল্ডাররা। চতুর্থ বলে রাবাদার বাউন্সার রোহিত শর্মার গ্লাভসে লাগলে সেটা ক্যাচ হিসেবে লুফে নিতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক ডু প্লেসিস।

এরপর থেকেই কিছুটা হাফ ছেড়ে বাঁচতে থাকে দুই ওপেনার। যদিও রাবাদার শিকারে পরিণত হয়ে ৮ রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন ধাওয়ান। অধিনায়ক বিরাট কোহলিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ক্রিজে। তাকে বিধ্বংসী হওয়ার আগেই ১৮ রানে ফেরান ফেহলুকায়ো। ১৬ অভারে ৫৪ রানে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়ে ভারত। ক্রিজে তখন ৪৭ বলে ২৭ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন রোহিত শর্মা। কোহলির সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়ার পর লোকেশ রাহুলকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন রোহিত শর্মা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৮৫ রান করে দলকে ভালো একটা অবস্থানে নিয়ে যান এই দুজন। এর মাঝেই ৭০ বলে অর্ধশতক তুলে নেন রোহিত।

প্রোটিয়া পেসারদের দেখেশুনে বেশ ভালোভাবেই খেলতে থাকেন আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক রোহিত। তাদের ১৪০ কিলোমিটারেরও বেশি গতির বলগুলোকে ছেড়ে দেন এবং বাজে বলকে বাউন্ডারিতে পরিণত করেন তিনি। ৩২ তম ওভারে আবারো ভারত শিবিরে আঘাত হানেন কাগিসো রাবাদা। ৪২ বলে ২৬ রান করা লোকেশ রাহুল রাবাদার বলে ডু প্লেসিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হলে মাঠে নামেন ধোনি।

ধোনিকে সঙ্গে নিয়ে আবারো দলকে জয়ের বন্দরে পৌছে নেয়ার কাজ করেন রোহিত শর্মা। ৪০তম ওভারে শামসির চতুর্থ বলে এক রান নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের ২৩তম সেঞ্চুরিটি তুলে নেন রোহিত। টপকে যান ভারতীয় কিংবদন্তি সৌরভ গাঙ্গুলির করা ২২তম সেঞ্চুরির রেকর্ডকে। রোহিত শর্মার সামনে এখন শুধু ৪১ সেঞ্চুরি করা বিরাট কোহলি এবং ৪৯ সেঞ্চুরি করা শচীন টেন্ডুলকার।

রোহিত শর্মা ও ধোনির ৭৪ রানের জুটি যখন ভাঙ্গে তখন দল জয় থেকে মাত্র ১৫ রান দূরে। ধোনি ৩৪ রান করে ক্রিস মরিসের বলে আউট হলেও দলকে জয়ী করেই মাঠ ছাড়েন রোহিত শর্মা। ১৫ বল এবং উইকেট হাতে রেখেই বিশ্বকাপের প্রথম জয় তুলে নিল ভারত। ইনিংস শেষে ১৪৪ বল খেলে ১২২ রানে অপরাজিত থাকেন রোহিত। যেখানে তিনি ১৩টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান।

দারুণ এক সেঞ্চুরি করার পর ম্যাচ সেরার পুরস্কারটাও তার প্রাপ্যই ছিল। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার নিতে এসে রোহিত শর্মা বলেন, ‘ভারতের থেকে এখানকার অভিজ্ঞতাটা ভিন্ন। আপনাকে এখানে বোলারদের বলগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে কীভাবে সেগুলো মুভ করে। এখানে আপনি সাধারণ খেলাটা খেলতে পারবেন না। ক্রিজে আপনাকে সময় কাটাতে হবে। আমি সচরাচর যেসব শট খেলে অভ্যস্ত সেগুলো এখানে ওমনভাবে খেলতে পারিনি। অনেক বল ছেড়ে দিয়েছি পিচের অবস্থা চিন্তা করে। রান তাড়া করে জিততে গেলে আপনাকে জুটি গড়তে হবে। এখানে এটাই প্রধান তরীকা। তারা হয়তো ছোট্ট পুঁজি পেয়েছিল কিন্তু এখানে বোলারদের জন্য সুবিধা ছিল। আমাদের জন্য বেশ কঠিন ছিল এবং আমাদের জুটির প্রয়োজন ছিল। ব্যাটসম্যানদেরই প্রধান কাজটা ছিল আমরা সেটা করতে পেরেছিল। আমরা একসঙ্গে এই পিচে দুই তিনজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কারণে জিততে পারবো না। সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সাফল্য দিয়েছে। গেল দুই বছর ধরেই আমরা এভাবে সাফল্য পাচ্ছি। আমি আশা করবো যেকোন সময়ে দলের হয়ে যে কেউ মাঝের ওভারগুলোতে দাঁড়িয়ে যাবে এবং চ্যালেঞ্জ নিবে। এটাই হচ্ছে ইংল্যান্ডে খেলার সৌন্দর্য্য। আমরা জুলাই কিংবা আগস্টের দিকে এখানে খেলেছিলাম কিন্তু এখন জুন। আবহাওয়াও বেশ ভালো এখন কিন্তু ভারতের মত আবহাওয়া নাই এখানে। এটা আমার সহজাত ইনিংস ছিল না কিন্তু আমাকে সব ওভার খেলে জয় নিশ্চিত করেই আসতে হতো এবং সেটা পেরেছি আমি।’

ভারতের এই জয়ের পেছনে বোলারদের ভূমিকা ছিল অন্য সবার থেকে বেশি। শুরুতেই বুমরাহ এবং ভুবনেশ্বর কুমারের সুইং এবং পেসে দিশেহারা হয়ে পড়ে দুই ওপেনার আমলা এবং ডি কককে ফেরান বুমরাহ। এরপরেই শুরু হয় ভারতীয়দের স্পিন যাদু। যদিও ভ্যান ডার ডুসেন এবং ডু প্লেসিস ৫৪ রানের জুটি গড়ে কিছুটা বিপর্যয় সামাল দেন। কিন্তু লেগ স্পিনার চাহাল ছিলেন এদিন অন্য সবার থেকে বিধ্বংসী। এক ওভারে ডু প্লেসি এবং ডুসেনকে আউট করে ভারতকে ম্যাচে ফেরান। শেষের দিকে ফেহলুকায়ো ও ডেভিড মিলারকেও নিজের শিকারে পরিণত করেন। অন্য রিস্ট স্পিনার কুলদীপ ইয়াদিবও তুলে নেন জেপি ডুমিনির উইকেট। শেষ দিকে ক্রিস মরসি ও রাবাদা ৬৬ রানের জুটি গড়লে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০০ রান পেরোয়। শেষ ওভারে বুমরাহর বলে ক্রিস মরিস আউট হওয়ার আগে ৩৪ বলে করেন ৪২ রান যা প্রোটিয়াদের ইনিংস সর্বোচ্চ রান।

টানা তিন হারে বিশ্বকাপ স্বপ্ন অনেকটাই শেষ দক্ষিণ আফ্রিকার। সেমিফাইনালে যেতে হলে পরবর্তী ৬টি ম্যাচই জিততে হবে তাদের। কিন্তু আদোতে সেটা অনেকটা অসম্ভবই বলা চলে। নিজেদের চতুর্থ ম্যাচ তারা খেলবে ১০ই জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ম্যাচে ভারত মাঠে নামবে ৯ই জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com