জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
উন্নয়নের ধারায় বাংলাদেশের অর্থনীতি

উন্নয়নের ধারায় বাংলাদেশের অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা ধরনের সংকট মোকাবিলা করেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এছাড়া, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান গতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে।

২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। সংস্থাটির চূড়ান্ত হিসাবে গত অর্থবছর ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে মাথাপিছু জিডিপি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৫২ মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮২৭ ডলার হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মাথাপিছু জাতীয় আয়। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় ছিল ১ হাজার ৭৫১ মার্কিন ডলার, যা ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে হয়েছে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার।

বিবিএসের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিনিয়োগই বিগত অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বিনিয়োগের হার ছিল জিডিপির ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে সরকারি বিনিয়োগের পরিমান জিডিপির ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে, বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমান জিডিপির ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। পূর্ববর্তী অর্থবছরে সরকারি বিনিয়োগ ছিল ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ।

পরিমিত খাদ্য মূল্যস্ফীতির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ সময়ের ব্যবধানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ কমেছে (২০১৮ সালের জুলাইয়ে এ হার ছিল ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। পক্ষান্তরে ২০১৯ সালের মার্চে তা দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ)। অন্যদিকে, একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।

চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ বছর রাজস্ব আহরণের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাশ), এনবিআর-বহির্ভূত কর রাজস্ব ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (জিডিপির শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ) এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা (জিপিডির শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ) এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব ২৭ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ)।

অর্থ বিভাগের ইন্টিগ্রেটেড বাজেটিং অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম ডাটাবেজের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত মোট রাজস্ব আহরিত হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। আহরিত এই রাজস্ব সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার ৪৯ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বেশি।

আহরিত রাজস্বের মধ্যে কর রাজস্বের পরিমাণ ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৮৮ শতাশ বেশি। এসময়ের কর-বহির্ভূত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ১৭ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি।

সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের মোট ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এরমধ্যে পরিচালন ব্যয় ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা (জিডিপির ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ), খাদ্য হিসাব ২৮২ কোটি টাকা, ঋণ ও অগ্রিম ১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা (জিডিপির ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ)। তন্মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বরাদ্দ ১ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ)।

ইবাসের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ব্যয় হয়েছে ৪১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় হয়েছে ২২ দশমিক ২১ শতাংশ ও এডিপি ব্যয় হয়েছে ২২ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে।

সামষ্টিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষিত হয়েছে। বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশের নিচে সীমিত রেখে এবং ৭ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের মুদ্রানীতি কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে অন্তর্ভূক্তিমূলক, কর্মসংস্থান সহায়ক এবং পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

২০১৭ সাল থেকে ঋণ দেওয়ার সুদের হার ক্রমশ কমছে। অপরদিকে, আমানতের সুদ হার বাড়ছে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক বছরের ব্যবধানে ঋণের ভারিত গড় সুদ কমেছে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। পক্ষান্তরে, একই সময়ের ব্যবধানে আমানতের ভারিত সুদ হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ। ঋণ ও আমানতের গত ভারিত সুদ হারের ব্যবধান ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে ছিল ৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে তা হয়েছে ৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাশ। এছাড়া, বিণিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণের সুদের হার কমাতে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশের মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০ হাজার ৯০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি। দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে তৈরি পোশাক এবং নিটওয়্যার দ্রব্যাদির অবদান সবচেয়ে চেয়ে বেশি। অপরদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশে মোট ৪০ হাজার ৮৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য আমদানি করা হয়েছে।

আমদানি ব্যয়ের এই পরিমাণ ২০১-২০১৮ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ হাজার ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি। এ সময়ে চীন থেকে সর্বাধিক মূল্যমানের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। আমদানিকরক দেশের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ভারত ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর।

বিগত বছরগুলোর মতো চলতি অর্থবছরেও বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্যে ঘাটতি দেখা গেছে। যদিও ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের তুলনায় এ বছর ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা কম। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাণিজ্য ভারসাম্যে ১০ হাজার ৬৭৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘাটতি হয়েছে। বিগত বছরের একই সময়ে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৬৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আলোচ্য সময়ে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ৪ হাজার ২৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘাটতির জন্য সার্বিক লেদেন ভারসাম্যে ৪৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘাটতি দেখা যায়।

বৈদেশিক মুদ্রা রক্ষণাবেক্ষণে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতির পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ১২ মিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক টাকা-ডলারের ও বিনিময় হারের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান কিছুটা কমেছে। ২০১৮ সালের ৩০ জুন তারিখে টাকার ভারিত গড় মূল্যমান ছিল প্রতি মার্কিন ডলারে ৮২ দশমিক ১০ টাকা, যা ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়ে ৮৩ দশমিক ৮৫ টাকা হয়েছে।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com