জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
ত্রিদেশীয় ট্রানজিট হবে বাংলাবান্ধা

ত্রিদেশীয় ট্রানজিট হবে বাংলাবান্ধা

যুগ-যুগান্তর
ফাইল ফটো

বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল মিলিয়ে ত্রিদেশীয় ট্রানজিটে হবে বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর। এরই মধ্যে গাড়ি চলাচলের উদ্যোগ নিয়েছে তিন দেশের সরকার। এ বিষয়ে চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল পরস্পরের সড়কপথ ব্যবহার করে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাতায়াত করতে পারবে।
এ বিষয়ে সর্বশেষ ২০১৪ সালে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন সমন্বয়’ও ভারতভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাটস ইন্টারন্যাশনাল যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্ক (দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা) দেশগুলোতে ৫০০ মিলিয়ন মানুষের বসবাস। এ বিবেচনায় ত্রিদেশীয় ট্রানজিট হলে ১০ বছরে বাংলাবান্ধা দেশের দ্বিতীয় স্থলবন্দরে পরিণত হবে।

পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করে ৩ দেশের মধ্যে ট্রানজিট সুবিধা চালু হলে বাংলাদেশের বাংলাবান্ধা, ভারতের ফুলবাড়ী ও নেপালের কাকরভিটা স্থলবন্দরগুলোতে আন্তঃবাণিজ্য বাড়বে। এতে বাংলাবান্ধা ১০ বছরে দেশের দ্বিতীয় স্থলবন্দরে পরিণত হবে। একই সঙ্গে নেপাল চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করা যাবে। নেপালের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কয়েকগুণ বাড়বে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও পর্যটন খাতের বিকাশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল (বিবিআইএন)-এর আওতায় মোটর ভেহিক্যালস অ্যাগ্রিমেন্ট (এমভিএ) বা মোটরযান চলাচল চুক্তি দ্রুত কার্যকর দেখতে চায় বাংলাদেশ ও ভারত। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার এই ৪টি দেশে বাণিজ্য বাড়বে।

বিবিআইএন মোটরযান চলাচল চুক্তি পূর্ণাঙ্গ রূপে কার্যকর হলে ঢাকা থেকে গাড়িতে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু যেতে পারবে বাংলাদেশিরা। হিমালয় কন্যা দেখার আগে সড়কপথে ভারতের শিলিগুড়ির সৌন্দর্যও উপভোগ করা যাবে। আকাশ পথে যারা নেপাল যেতে চান না, তাদের নিয়ে সড়ক পথে শিলিগুড়ি হয়ে কাঠমান্ডু যাবে বাংলাদেশি গাড়ি। ফলে অপার সম্ভবনার দ্বার খুলবে মহানন্দা নদী তীরে অবস্থিত বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটন খাতের বিকাশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবিআইএনের আওতায় পরিবহন চলাচল চুক্তি কার্যকর করা প্রয়োজন। যদিও এখন পর্যন্ত ভুটান চুক্তি কার্যকরে উদ্যোগ নেয়নি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের যৌথ উদ্যোগ বিবিআইএন নামে পরিচিত। ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে এই চার দেশের মধ্যে বিবিআইএন মোটর ভেহিক্যালস অ্যাগ্রিমেন্ট (এমভিএ) বা মোটরযান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষর হয় ২০১৫ সালের জুনে। পরে এই চুক্তি বাস্তবায়নে ধীর চলো নীতি অনুসরণ শুরু করে ভুটান। দেশটির সংসদের উচ্চকক্ষ চার দেশের মধ্যে যান চলাচল চুক্তির অনুমোদন দেয়নি। তাই ভুটানকে বাদ দিয়েই বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্যে গাড়ি চলাচলের উদ্যোগ নিয়েছে ৩ দেশের সরকার। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল পরস্পরের সড়কপথ ব্যবহার করে এক দেশ আরেক দেশে যাতায়াত করতে পারবে।

বিবিআইএনের আওতায় বাংলাদেশ-ভারত ও নেপাল মিলিয়ে ত্রিদেশীয় ট্রানজিটেও অপার সম্ভাবনা হয়ে উঠছে বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর। ত্রিদেশীয় আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের প্রাণ হয়ে দাঁড়াবে দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়ন বাংলাবান্ধা। এই তিন দেশের মানুষও স্বল্প খরচে স্থলপথে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাতায়াত করতে পারবে। পর্যটকদের পাশাপাশি বাংলাদেশে নেপালের শির্ক্ষাথীদের আগমনও বাড়বে অনেক।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com