জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
দালালদের চেকপোস্টে আটকা স্বাস্থ্যসেবা

দালালদের চেকপোস্টে আটকা স্বাস্থ্যসেবা

নোয়াখালী  প্রতিবেদক

দালালদের দৌরাত্বে অতিষ্ঠ নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসা হাজারো রোগী। হাসপাতালে প্রবেশ করতে গেলে এসব দালালদের টানাটানির মধ্যে পড়তে হয় রোগীদের। এছাড়াও আউটডোর এবং ইনডোরে রয়েছে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড়।

সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে ঢুকতেই হাসপাতালের বহিঃবিভাগের ওয়ার্ডবয় এক রোগীকে হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন নষ্ট বলে বাহিরে করিয়ে দেয়ার জন্য ম্যানেজ করছেন। এক্স-রে বাইরে কেন জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে কেটে পড়েন ওই ওয়ার্ডবয়।

আমিলুর রহমান নামে এক রোগীর অভিযোগ, আউটডোরের ওয়ার্ডবয় থেকে শুরু করে প্রতিটি প্যাথলজি সেন্টারে পিয়ন থেকে ডাক্তার ও কর্মকর্তারা কমিশন বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। সকাল ও রাতে দুইবার ওয়ার্ডে রোগীদের খোঁজখবর নেয়ার কথা থাকলেও সকালে ওয়ার্ডে যান ডাক্তাররা। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত নিজেদের প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তারা।

হাসপাতালের গাইনী ও লেবার বিভাগের ২নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন নুর জাহান ও রোকসানা আক্তার বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন তারা। হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় বেশিরভাগ ওষুধই তাদেরকে বাহির থেকে কিনতে হয়েছে। শুধু ওষুধই নয়, হাসপাতাল থেকে যে খাবার সরবরাহ করা হয় তাও অত্যন্ত নিম্নমানের। ভাতের সঙ্গে সামান্য সবজি মিললেও জোটে না মাছ অথবা মাংস! সকালের বাসি পাউরুটি ও পোকা থাকায় না খেয়ে ফেলে দেন রোগীরা। অর্থাৎ যে পরিমান মানসম্মত খাবার রোগীদের পরিবেশন করার কথা তার অধের্কও সরবরাহ করা হয় না এই হাসপাতালে।

মেডিসিন বিভাগের ৮নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী লুৎফুর রহমান ও মোহাম্মদ হানিফ বলেন, হাসপাতালের টয়লেটে গেলে দুর্গন্ধে বমি আসে। এখানে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

মেডিসিন বিভাগের ১১নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী মফিজ উল্যা বলেন, গত চারদিন পূর্বে তিনি হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালে ঢুকতেই প্রবেশ পথে এক দালাল তাকে হাসপাতালে ডাক্তার নেই বলে পাশের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে একজন ডাক্তার (ইন্টার্ন) দেখিয়ে ১২শ’ টাকা নিয়ে নেন। পরে ওই হাসপাতালে ভর্তি হতে বললে তিনি অর্থের অভাবে পুনরায় জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ নোয়াখালীর সভাপতি ডা. ফজলে এলাহী খান বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ ও সেবার মান ভালো রাখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি।

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. খলিল উল্যাহ বলেন, হাসপাতালের অবকাঠামোগত সমস্যা ও অতিরিক্ত রোগীর কারণে ব্যবস্থাপনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে নতুন ভবন নির্মাণ হলে সব সমস্যা ও সংকট দূর হবে। তিনি জানান, হাসপাতালটির জন্য নতুন ১০ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিকট আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এই হাসপাতালের ভবন নির্মাণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, পুরাতন ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় এবং অতিরিক্ত রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে কিছুটা হিমমিশ খেতে হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণ এবং ২৫০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সামগ্রী বরাদ্ধ দিলে রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com