জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
চিংড়ির পরিবর্তে কাঁকড়া বদলাচ্ছে ভাগ্য

চিংড়ির পরিবর্তে কাঁকড়া বদলাচ্ছে ভাগ্য

যুগ-যুগান্তর ডেস্ক : 

বেরি বাঁধের এক পাশে জনবসতি, অপর পাশে নদী আর সুন্দরবন নিয়ে গড়ে উঠা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালি এলাকা চিংড়ি চাষের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু গত তিন-চার বছরের মধ্যে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। এলাকাটি এখন কাঁকড়া চাষের জন্য প্রসিদ্ধ। বাঁধের ভেতরে গড়ে উঠেছে বহু কাঁকড়া চাষ প্রকল্প।

দাতিনাখালির বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বছর তিনেক আগে কাঁকড়া চাষ শুরু করেন। বাজার থেকে কাঁকড়া কিনে প্লাস্টিকের ছোট ছোট বাক্সে ভরে পুকুরে রেখে দেন তিনি। প্রতিটি বাক্সে এক একটি করে কাঁকড়া। এর মাধ্যমে তিনি কাঁকড়াগুলোকে নরম করেন। সেগুলো নরম করার পর আবারো বিক্রি করে দেন আব্দুস সাত্তার।

তিনি জানান, বাজার থেকে শক্ত কাঁকড়া ক্রয় করি। একটার ওজন হয় ৫০ গ্রাম। তারপর বক্সে মধ্যে রেখে সেগুলোকে খাবার দিই। তেলাপিয়া মাছ ছোট ছোট করে খাদ্য হিসেবে বক্সে দেই। এটা ১৫ দিন আমাদের এখানে খাবার দিতে হয়। এখন প্রতিমাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকার কাঁকড়া বিক্রি করি। সব খরচ বাদ দিয়ে ভালোই চলছে ব্যবসা।

এ অঞ্চলের মানুষ যারা এক সময় বাগদা চিংড়ি চাষের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারা এখন কাঁকড়ার ব্যবসায় ঝুঁকেছেন। তারা বলছেন, বাগদা চিংড়ি ঘেরে মাঝে মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। আর একবার ভাইরাস ছড়ালে পুরো ঘের উজাড় হয়ে যায়।

সায়েরা খাতুন ও আরেক ব্যবসায়ী। ছবি: সংগৃহীত

সায়েরা খাতুন ও আরেক ব্যবসায়ী। ছবি: সংগৃহীত

সায়েরা পারভীন গত তিন বছর ধরে কাঁকড়ার ব্যবসা করছেন। তার বর্ণনায় কাঁকড়া চাষে লাভ অতুলনীয়। তিনি জানান, শক্ত কাঁকড়া আমরা কিনে আনি আড়াইশ টাকা কেজি। বিক্রি করি ৫৬০ টাকা। এর মধ্যে খরচ আছে। পুকুরে মেডিসিন দিতে হয়, খাবার দিতে হয়। তারপরেও অর্ধেক-অর্ধেক লাভবান থাকা যায়।

সূত্র বলছে, কাঁকড়ার ব্যবসার জন্য সায়েরা খাতুন এবং আব্দুস সাত্তারের মতো অনেকেই বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন। দ্রুত বিকাশমান এ ব্যবসায় দিতে আগ্রহী বেসরকারি সংস্থাগুলো। তাদেরই একটি জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন।

প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলী বলেন, কাঁকড়ার ব্যবসায় ঋণ দিলে সেটি আদায়ের হারও বেশ ভালো। যার অর্থ ব্যবসা ভালোই চলছে। এ কাঁকড়া গুলো থাইল্যান্ড, জাপান এবং চীনে যায়। নভেম্বর থেকে তিন মাস কাঁকড়ার ব্যাপক চাহিদা থাকে। স্থানীয় বাজরে প্রতিদিন যে পরিমাণ কাঁকড়া বেচাকেনা হয় সেটি একেবারে কম নয়।

দাতিনাখালির একটি বাজারে এক কাঁকড়া ব্যবসায়ী অমল কুমার মণ্ডল জানান, তার দোকানে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কেজির মতো কাঁকড়া ক্রয়-বিক্রয় হয়। আর পুরো বাজারে এটি ৫০০ কেজির মতো।

কাঁকড়া ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, বাগদা চিংড়ির চেয়ে কাঁকড়ার ব্যবসায় দ্রুত নগদ টাকা লেনদেন হয়। তাছাড়া বাগদা চিংড়ির ব্যবসায় টাকার নিশ্চয়তা কম। ফ্যাক্টরি-ওয়ালারা টাকা সেভাবে দেয়না। পাঁচ লাখ টাকার বাগদা চিংড়ি পাঠালে টাকা দেয় দিতো দুই লাখ। তিন লাখ বকেয়া। আর কাঁকড়ার ব্যবসায় এখন মাল দিলে এখনই টাকা।

দাতিনাখালির স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই যেমন কাঁকড়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তেমনি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কাঁকড়ার ব্যবসায় নাম লিখিয়েছেন ঢাকাভিত্তিক কিছু পরিচিত ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়রা বলছেন, এ ব্যবসায় বিনিয়োগ যত বেশি লাভও তত বেশি।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com