জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য জয়ের কারিগর হাফিজ

পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য জয়ের কারিগর হাফিজ

ক্রীড়া ডেস্ক : 

নাসির হোসাইনের কথাটা দিয়েই শুরু করা যাক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয়ের পর সাবেক এই ইংলিশ ক্রিকেটার ধারাভাষ্য কক্ষে বলতেছিলেন, পাকিস্তান ক্রিকেট এক কথায় অসাধারণ। এক মিনিটে তারা ভূপাতিত হবে কিন্তু পরের মিনিটে আবার তারা জেগে উঠবে। কাকতালীয়ভাবে ক্রিকেটে পাকিস্তানের অবস্থাটাও অনেকটা এরকম। যে দলের টানা ১১টি ওয়ানডে ম্যাচে জয় নেই, সেই দল হারাবে বর্তমান সময়ের সেরা ওয়ানডে দল ইংল্যান্ডকে! এমনটা বোধহয় পাকিস্তানি সমর্থকরাও কল্পনা করতে পারেনি। কিন্তু কল্পনা করেছিলেন পাকিস্তানের মাঠে নামা ১১ জন খেলোয়াড়। বিপর্যস্ত পাকিস্তানকে খাঁদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররাই। যেখানে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল বর্ষীয়ান অলরাউন্ডার এবং সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজের। তার অলরাউন্ড নৈপূণ্য সহায়তা করে পাকিস্তানকে অবিশ্বাস্যভাবে ১৪ রানে জয় পেতে।

পাকিস্তানের এমন জয় আসলে কেউ বিশ্বাসই করতে পারছিল না। যে দল এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ শুরুর আগে পরপর তিন ম্যাচে ৩৪০+ রান করেও হেরেছে তারা এবার ৩৪৯ রান লক্ষ্য দিলেও প্রায় সবাই ধরে নিয়েছিল অনায়াসেই জিততে যাচ্ছে ইংলিশরা। কেননা তাদের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা হার্ড হিটার ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু বিশ্বকাপের চাপটা ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি আর তাই ইংল্যান্ডেরও ছোঁয়া হলো না বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় করার রেকর্ডটিকেও।

শুরুতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের ব্যর্থতা কাটিয়ে দারুণ সূচনা করেন দুই পাকিস্তানি ওপেনার ফখর জামান ও ইমাম উল হক। ১৪ ওভারে ৮২ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে বড় রানের ভিত গড়ে দেন। ফখর মঈন আলীর বলে ৩৬ রান করে আউট হন। এরপর বাবর আজমের সঙ্গে ১৯ রানের জুটি গড়ে ক্রিস ওকসের শিকারে পরিণত হন ইমাম উল হক। দলীয় ১১১ রানে ক্রিজে আসেন মোহাম্মদ হাফিজ।

তিনি ক্রিজে আসার পর থেকেই পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট। প্রথম বলেই ডাউন দ্য ট্রাকে এগিয়ে এসে মঈন আলীকে চার মেরে ইনিংসের খাতা খোলেন এ ডান হাতি ব্যাটসম্যান। এরপর বাবর আজমকে নিয়ে ৮৮ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন হাফিজ। ৬৬ বলে ৬৩ রান করা বাবর আজমকে ফেরান সেই মঈন আলীই। এরপর অধিনায়ক সরফরাজকে নিয়ে ৮০ রানের আরো একটি জুটি গড়েন হাফিজ। এর মাঝেই নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। সরফরাজের সঙ্গে জুটি গড়ে যখন দলকে ভালো একটি স্কোরের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন ঠিক তখনই  হাফিজকে ৮৪ রানে ফেরান বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা মার্ক উড। ৬২ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান তিনি।

দলের বাকি ব্যাটসম্যানদের কল্যাণে পাকিস্তান পায় ৩৪৯ রানের বিশাল পুঁজি। বিশ্বকাপের মত মঞ্চে এটা ম্যাচ জয়ী সংগ্রহই বলা চলে। ১৩তম ওভারে পাকিস্তানের হয়ে বোলিংয়ে আসেন হাফিজ। তার আগেই ৭৩ রানের ভেতর জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টোকে হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়ে ইংল্যান্ড। হাফিজ এসে রানের চাকাকে আরো শিথিল করে দেন। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ‘বিগ ফিশ’কে বধ করেন হাফিজ। অধিনায়ক ইয়ন মরগানকে বিধ্বংসী হয়ে ওঠার আগেই মাত্র ৯ রানে ফেরান এই ডান হাতি অফ স্পিন বোলার। তাকে একদম ক্লিন বোল্ড করে পুরো ম্যাচের নাটাই নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় পাকিস্তান।

নিজের তৃতীয় ওভারে এসে মাত্র ৫ রান দেন হাফিজ। তার চতুর্থ ওভারের শেষ বলে এক রান নিয়ে ৫০ রান পূর্ণ করেন জো রুট। এক সময় ম্যাচটি ইংল্যান্ডের দিকে বেশ ঝুঁকে গিয়েছিল। জো রুট এবং জশ বাটলার দুজনই সেঞ্চুরি হাঁকান কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেলে আসতে পারেননি কেউই। জো রুট সাদাব খানের কুইকার ডেলিভারিতে আউট হন এবং জশ বাটলার সেঞ্চুরি করার পরের বলটিতেই মোহাম্মদ আমিরের বলে শর্ট থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিলে কার্যত তখনই শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের ম্যাচ জয়ের আশা। ম্যাচে মোহাম্মদ হাফিজকে দিয়ে ৭ ওভারের বেশি বল করাননি অধিনায়ক সরফরাজ। মূল্যবান একটি উইকেট নিয়ে জয় নিয়েই ম্যাচ সেরা হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ হাফিজ পুরস্কার নিতে এসে বলেন, সবাই বিশ্বাস করতো আমরা ম্যাচটি জিততে পারি। আমরা এর আগে ভালো ক্রিকেট খেলেছি কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা জিততে পারছিলাম না। আজকে সবাই দারুণ খেলেছে। আমরা পরিস্থিতি বিবেচনা নিজেদের সেরাটাই দিয়েছি। আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী। আগের দিন ভালো অনুশীলন করেছি, দলের সবার সঙ্গে ভালো একটি মিটিংও হয়েছে, আমাদের সবার থেকে ম্যাচ জয়ী পারফরম্যান্সগুলোরই দরকার ছিল। বোলাররা এ পুঁজিতেই ওদের আটকাতে দারুণ বল করেছে। ব্যাটসম্যানরাও ভালো করেছে বড় স্কোর গড়তে। প্রথম ম্যাচে আমরা ভালো খেলতে পারিনি কিন্তু আজকে আমরা আমাদের সামর্থ্যকে প্রমাণ করেছি। এ জয় আমাদের আত্মবিশ্বাসকে আরো চাঙ্গা করে দিবে। আমাদের ড্রেসিং রুমটাও এখন বেশ জমজমাট থাকবে এবং আশা করছি সামনেরও ম্যাচগুলো ভাল করবো।

হাফিজ ছাড়াও পাকিস্তানের জয়ে অন্যদের অবদানও ছিল অনেক। বাবর আজমের ৬৩ রানের পাশাপাশি অধিনায়ক সরফরাজের অধিনায়কখচিত ৪৪ বলে ৫৫ রানের ইনিংস পাকিস্তানকে ভালো সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নেয়। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের উল্লেখযোগ্য দিক হলো তারা আগের ম্যাচে যেমন বাউন্সারে কুপোকাত হয়েছিল এ ম্যাচে ঠিক তেমনটা হয়নি। দেখে শুনে জোফরা আর্চার, মার্ক উড, ক্রিস ওকসদের মোকাবেলা করেছেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা।

বোলিংয়েও পাকিস্তানি বোলাররা বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। শুরুতেই শাদাব খান জেসন রয়কে তুলে নেন। দশ ওভারের ভেতর জনি বেয়ারস্টোকেও ইংল্যান্ড হারায়। তৃতীয় উইকেটে জো রুট এবং জশ বাটলারের ১৩০ রানের বিশাল জুটি ইংল্যান্ডকে জয়ের সুবাস দিচ্ছিল। কিন্তু জো রুট ও জশ বাটলারের দুটি সেঞ্চুরির পরেও তাদেরকে হারতে হলো পাকিস্তানি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে। শেষ দিকে ওয়াহাব রিয়াজের গতি, ইয়োর্কার এবং শর্ট বলে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা দিশেহারা হলে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৩৪ রানেই থামে তাদের ইনিংস। আর পাকিস্তান পায় অকল্পনীয়ভাবে ১৪ রানের জয়।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com