জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
মনে হচ্ছিল যেন ঢাকা বা চট্টগ্রামে খেলছি: রস টেলর

মনে হচ্ছিল যেন ঢাকা বা চট্টগ্রামে খেলছি: রস টেলর

ক্রীড়া প্রতিবেদক
হলো না। আরো একবার স্বপ্ন ভঙ্গ হল তীরে এসে। মোস্তাফিজের করা ৪৮ তম ওভারের প্রথম বলেই চার মেরে নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন মিচেল সান্টনার। কিন্তু এই জয়টা নিউজিল্যান্ড যত সহজে ভেবেছিল পাবে ঠিক ততটাই কঠিনভাবে পেতে হলো। যেটার মূলে রয়েছে বাংলাদেশের বোলিং এবং সমর্থকরা। বাংলাদেশকে ২ উইকেটে হারানোর ম্যাচে ৮২ রান করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হন অভিজ্ঞ রস টেলর। তিনি নিজেও সংবাদ সম্মেলনে এসে স্বীকার করেন এক পর্যায়ে এই সমর্থকদের কারণেই তাদের মনোযোগ ধরে রাখাটা কষ্টকর হচ্ছিল।
‘বাংলাদেশের সমর্থকরা অসাধারণ সমর্থন যুগিয়েছে। আমরা সাধারণ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এমন দর্শক দেখি না। আমার দেখে মনে হচ্ছিল, আমি যেন ঢাকা বা চট্টগ্রামের মাঠে খেলছি। তাদের সমর্থকদের উল্লাসের কারণে আমাদের মাঝেমধ্যে খেলতে সমস্যাও হচ্ছিল। তাদের দর্শকের আমি পূর্ণ ক্রেডিট দিতে চাই।’

রস টেলর দর্শকদের পক্ষে থাকলেও এই রস টেলরের ৮২ রানেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয় বাংলাদেশের। ২৪৪ রানের পুঁজি নিয়ে বোলিংয়ে নেমে শুরু থেকে দুই ওপেনার গাপটিল এবং কলিন মুনরোকে আক্রমণাত্মক বোলিং করতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশি পেসাররা। এ কারণে ষষ্ঠ ওভারেই দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বোলার সাকিবকে নিয়ে আসেন অধিনায়ক মাশরাফি।

সাকিব এসেই কিউইদের প্রথম উইকেটের পতন ঘটান। দলীয় ৩৫ রানে গাপটিল তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে বাড়ির পথ ধরেন। প্রথম পাওয়ার প্লের একদম শেষ বলে আবারো কিউই শিবিরে আঘাত হানেন সাকিব। এবার আরেক ওপেনার কলিন মুনরোকে নিজের শিকারে পরিণত করেন এই বা হাতি স্পিনার। ব্যক্তিগত ২৪ রানে মুনরোকে ফিরিয়ে নিউজিল্যান্ডকে চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশ।

কিন্তু তখনও ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তটি অপেক্ষা করছিল। যেটিও আসে এই সাকিবের ওভারেই। ম্যাচের ১২ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে টেলর লং অনে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নেওয়ার জন্য দৌড় দিলে অপর প্রান্তে থাকা কেন উইলিয়ামসন কিছুটা দেরিতে সায় দেন। যার দরুন বল ধরেই তামিম ইকবাল উইকেট রক্ষকের কাছে দিলে মুশফিক সেটিকে লুফে নিয়ে স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দেন। কেন উইলিয়ামসন ক্রিজে ঢোকার দাগ থেকে অনেক দূরে থাকলে অন্যমনস্ক হয়ে মুশফিক সবচেয়ে বড় ভুলটা করে ফেলেন ম্যাচের। তিনি বলটি সামনে হাত বাড়িয়ে ধরতে গিয়ে স্ট্যাম্প হাত দিয়ে ভেঙে দেন আগেই। যার দরুণ কেন উইলিয়ামসন জীবন ফিরে পান। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানকে জীবন দিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচে থাকার জীবনটাই শেষ করে ফেলেন মুশফিক।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১০৫ রানের বড় জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেন কেন উইলিয়ামসন এবং রস টেলর। এর মাঝে নিজের ৪৮তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন রস টেলর। যখন বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে ঠিক তখনই আশার সঞ্চার যোগান মেহেদি মিরাজ। ৪৪ রান করা অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে নিজের প্রথম শিকারে পরিণত করেন এই ডান হাতি স্পিনার। ঐ একই ওভারে উইকেট রক্ষক টম লাথামকে আউট করে ম্যাচের নাটাই আবার দুই পক্ষের দিকেই নিয়ে আসেন মিরাজ।

পরপর দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ৩২ ওভার শেষে রস টেলর ৭০ রান নিয়ে অপরাজিত থাকা অবস্থায় ক্রিজে আসেন জিমি নেশাম। বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা লাইন লেংথ মেনে বেশ ভালো বোলিং করছিল। বিশেষ করে মোসাদ্দেক ও মিরাজ দারুণ বোলিংয়ে কিউইদের রানের চাকা আটকে রেখেছিল। যেই চাপ সামলাতে ব্যর্থ হন রস টেলর নিজেই।

৯১ বলে ৮২ রান করা রস টেলরকে মোসাদ্দেক নিজের প্রথম শিকারে পরিণত করেন। লেগ সাইড দিয়ে ব্যাটের কিনারায় লেগে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন টেলর। তিনি ইনিংসটি সাজান ৯টি চারের মাধ্যমে। টেলর আউট হলে ক্রিজে আসেন গ্রান্ডহোম। নিশামের সঙ্গে জুটি বেধে কিউইদের বিপর্যয় সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন এই অলরাউন্ডার। কিন্তু কাজের কাজ কিচ্ছু হয় নি। বরং সাইফুদ্দিনের স্লো বাউন্সারে উইকেটের পেছনে লেগ কাট করলে লাফিয়ে এক হাত দিয়ে ক্যাচ লুফে নেন মুশফিক। ৪৪ তম ওভারে জিমি নেশামকে লং অফে মোসাদ্দেক নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করলে ম্যাচ ঘুরে আসে বাংলাদেশের দিকে। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়নি। শেষ দিকে মিচেল সান্টনার, ম্যাট হেনরি ও লকি ফার্গুসনরা মিলে বাংলাদেশের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেয়। এজন্য বাংলাদেশের বোলারদের কৃতিত্বও কম নয় কেননা শেষ দিকে এসে মোস্তাফিজ কিংবা সাইফুদ্দিন ঐ রকম আশানরূপ বোলিং করতে পারে নি যার দরুণ মাত্র ২ উইকেটের হার নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় আমাদের।

ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার নিতে এসে রস টেলর বাংলাদেশের প্রশংসা করতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই স্নায়ুচাপে ভোগার মত একটি জয়। কিন্তু বাংলাদেশ দলকে বাহবা দিতেই হবে এবং তাদের সমর্থকদের যারা সংখ্যায় অনেক এসেছে। তারা আমাদের উপর অনেক চাপ প্রয়োগ করে এবং এটা তাদের পক্ষেও যেতে পারতো। আমরা ভেবেছিলাম ২৭০-২৮০ রান এই উইকেটে ভালো সংগ্রহ কিন্তু তাদের বোলাররা ২৪৪ রান নিয়েই অসাধারণ লড়াই করেছে। দিন শেষে জয়ী হওয়াটা আসলেই আনন্দদায়ক। আমাদের রান নেয়ার ক্ষেত্রে আরো কাজ করতে হবে কারণ আজকে কয়েকটা সিদ্ধান্তে আমাদের বোঝাপড়ার সমস্য হচ্ছিল। কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ব্যাটিং করাটা সত্যি উপভোগ্য। আশা করছি আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে আমরা আরো ভালো খেলতে পারব।’

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ভালো শুরুর পরেও খেই হারায় বাংলাদেশ। শুরুতে ৩৫ রানের জুটির পর ধস শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে। যা চলতে থাকে একদম শেষ পর্যন্ত। মাঝে মুশফিক ও সাকিবের ৫০ রানের জুটি কিছুটা আশা জাগালেও দুজনের ভুল বোঝাবুঝিতে মুশফিক রান আউট হলে আবারও ব্যাকফুটে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর মিথুনের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়েন বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী সাকিব আল হাসান। সাকিবের আউটের পর এক সময় মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ ২০০ ও করতে পারবে না। কিন্তু শেষ দিকে সাইফুদ্দিন ২৩ বলে ২৯ রান করলে বাংলাদেশ ২৪৪ রানের লড়াকু পুঁজি পায়। কিউই পেসারদের ভেতর ম্যাট হেনরি ৪৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট পান।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com