জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
গুড়িয়ে দেয়া হলো শত বছরের জাহাজ বিল্ডিং

গুড়িয়ে দেয়া হলো শত বছরের জাহাজ বিল্ডিং

নিজস্ব প্রতিবেদক

এক রাতেই গুড়িয়ে দেয়া হলো চকবাজারের শত বর্ষীয় জাহাজ বিল্ডিং। তবে কে বা কারা ভবনটি ভেঙেছে, তা এখনো কেউই নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারছেন না। গেলো রাত দুইটার পর ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জের ডালপট্টি, চকবাজার শাহী জামে মসজিদ সড়ক ও চক মোগলটুলি রাস্তা বন্ধ করে দুইটি বুলডোজার ও একটি ভেকু দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউন্সিললের নেতৃত্বে কয়েকশ শ্রমিক জাহাজ বিল্ডিং ভাঙার কাজ করে।
ঢাকার প্রথম বানিজ্যিক ভবন চক মোগলটুলির জাহাজ বিল্ডিং। যার রয়েছে শত বছরের পুরানো ঐতিহ্য। জাহাজের আদলে করা ভবনের বাইরে অংশে রয়েছে নানা ধরনের কারুকাজ। যা এখনো প্রায় অক্ষত। কারণ ভবনটি মোগল সম্রাটদের আমলে করা হলেও পরবর্তীতে শায়েস্তা খাঁর আমলে চুড়ান্ত করা হয় এর কারুকাজ। বলতে গেলে ১৯৪৭ সালে উদ্বোধন করা হয় দেশের প্রথম জাহাজ বিল্ডিং।

কিন্তু সম্প্রতি কে বা কারা জাহাজ বিল্ডিং ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ ভবনটিতে থাকা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের। কেউ কেউ দাবি করছেন, স্থানীয় এমপির লোকজন বৃহস্পতিবার রাত দুইটার পর পুরো ভবনে একসঙ্গে তিনটি মাচা তৈরি করে হঠাৎ জাহাজ বিল্ডিং ভেঙ্গে ফেলে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় এমপির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ভবনটিতে থাকা দোকান ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই ভবন ভাঙা শুরু করে এমপির লোকজন। পরে পুলিশ ভাঙার খবর পেয়ে দ্রুত এসে তা বন্ধ করে দেয়।

চকবাজার থানার ওসি শামীম আল রশীদ জানান, আমি যতটুকু শুনেছি অনেক পুরানো ঐতিহ্যবাহী দোতলা ওই ভবনটি হাজী সেলিম কিনেছেন। তিনি হয়তো এটি ভেঙে নতুন কিছু করবেন। কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক দিক বিশ্লেষণে কারুকাজ খচিত ঢাকার প্রথম বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বিধায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ায় ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

আরবান স্টাডি গ্রুপের ভাষ্য মতে, পুরান ঢাকার চকবাজারের ওই ভবনই দেশের প্রথম বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে বিবেচিত।

পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মো. ইব্রাহীম খান জানান, ওই ভবনটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার তালিকায় রয়েছে। তাছাড়া এ বিষয়ে একটি জিডি করা আছে। তিনি বলেন, “ভবনটি কোনোভাবেই ভাঙা যাবে না।” ওই এলাকায় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা একথা জানালেও বাস্তবে গতরাতে পুরোভবনটির বেশিরভাগ অংশ গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকার হেরিটেজ সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলন করে আসা সংগঠন আরবান স্টাডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলাম। তিনি বলেন, গতকাল রাতে সবাই যখন ঈদের আনন্দ করছে তখন প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত বুলডোজারের সাহায্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় চকবাজারের জাহাজ বাড়ি খ্যাত ঐতিহাসিক ভবনটি। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার চকবাজার থানায় একটি জিডি করেছেন বলে জানান তিনি।

আরবান স্টাডি গ্রুপের পক্ষ থেকে করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট ২০১৭ সালে পুরান ঢাকার ২২০০ ঐতিহ্যবাহী ভবন ও স্থাপনার ধ্বংস, পরিবর্তন এবং পরিবর্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা আছে বলে জানান তাইমুর ইসলাম। পুলিশ ভাঙার কাজ বন্ধ করে দেয়ার আগেই ভবনটির দুই পাশই ভেঙে ফেলা হয়েছিল।

তাইমুর ইসলাম আরো জানান, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ভবনটি গত মার্চ মাস থেকে ভাঙার চেষ্টা চলছিল। তখন জিডি করে থানার সাহায্যে বন্ধ করা হয়। এবার এমন সময় করা হল, যেন বাধা দেয়ার কোনো সুযোগ না থাকে।

তিনি জানান, গত সাত-আট মাসে আরবান স্টাডি গ্রুপের সদস্য ও স্বেচ্ছেসেবকদের প্রচেষ্টায় কিছু ভবন ভাঙার চেষ্টা ঠেকানো গেলেও এরইমধ্যে পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী ভবন ভাঙা হয়েছে।

“তবে জাহাজ বাড়ির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেভাবে ভেঙে ফেলা হল তা সত্যি অবিশ্বাস্য।” তিনি বলেন, উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে নির্মিত ওই ভবনই ঢাকার প্রথম বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে পরিচিত।

জাহাজ বিল্ডিংয়ে থাকা বিভিন্ন দোকানের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভবনটি ওয়াকফ স্টেট হিসেবে ছিল। তারা নিয়মিত ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রতিনিধিকে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন।

ওয়াকফের প্রতিনিধি জনৈক হক ওমরা করতে সৌদি রয়েছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় এমপি হাজী সেলিমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বন্ধ পাওয়া যায় তার মোবাইল।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com