জরুরি নোটিশ:
যুগযুগান্তর পত্রিকার জন্য সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় সংবাদ দাতা আবশ্যক।  মোবা: 01842268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com
দুর্নীতি আমরা করব না, কাউকে করতেও দেব না: প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতি আমরা করব না, কাউকে করতেও দেব না: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দুর্নীতি আমরা করব না, কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। ঘুষ যে গ্রহণ করবে, ঘুষ যে দেবে- তারা উভয়ই অপরাধী। দুইজনকেই ধরা হবে। শুধু ঘুষ নিলে তাকে ধরা হবে তা নয়, যে দেবে তাকেও ধরা হবে। কারণ ঘুষ দেওয়াটাও অপরাধ। যদি কোনো ধরণের অপরাধের সঙ্গে আমাদের দলেরও কেউ যদি সম্পৃক্ত থাকে, আমি তাদেরকে ছাড় দিচ্ছি না, ছাড় দেব না। আর অন্য কেউ যদি করে তারা তো ছাড় পাবেই না। শাসনটা ঘর থেকেই করতে হবে, আমিও তাই করছি। এমনকি আইন-শৃঙ্খলা সংস্থার কেউ এধরণের অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং এটা অব্যাহত থাকবে। কারণ এটা সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় দেশ থেকে দুর্নীতি, অন্যায়, অবিচার দূর করতে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে দলমত নির্বিশেষে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, সবাই ধোঁয়া তুলশী পাতা না। অনেকেই দুর্নীতির সাথে জড়িত। দুর্নীতি করলে সাধারণ ছোট-খাটো চোর ধরতে পারবে, কিন্তু বড় অর্থশালী-বিত্তশালী হলে তাদের হাত দেওয়া যাবে না, ধরা যাবে না- এটা তো হয় না। আমার চোখে অপরাধী যে অপরাধীই। তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কেউ বলতে পারবেন না সবাই একশ’ ভাগ সৎ হবে। ঈদের আগে যখন দেশের বাইরে ছিলাম, তখন কিছু বড় বড় জায়গায় হাত দেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো। এটা আমার কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিল না। মনে হয়, এমন অনেক বড় জায়গা আছে যাতে হাত দিলেই হাতটা পুড়ে যাচ্ছে। যারা ধরতে যায় তারাই অপরাধী হয়ে যায়। কিছু পত্র-পত্রিকা লেখা-লেখি শুরু করে। তবে আমাদের সচেতন থাকতে হবে, কে কি বললো তাতে কান দেওয়ার দরকার নেই। এ ধরনের জনশ্রুতি যেন সৃষ্টি না হয়।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, খুব নামিদামী জায়গা হলেই তাদের যে কোন খারাপ কিছু হবে না বা তাদের যারা মালিক তারাও তো এ ব্যাপারে গ্যারান্ট্রি দিতে পারবে না। সেখানে কেন পরীক্ষা করা যাবে না। দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে। সমাজ থেকে অন্যায় অবিচার দূর করতে হবে। শুধু বাহিনীর উপর নির্ভরশীল তা নয়, সামাজিকভাবে সচেতন করতে হবে।

সব সময় নিজেকে জনগণের সেবক মনে করি:
জাতীয় পার্টির বেগম রওশন আরা মান্নানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সময় নিজেকে বাংলাদেশের জনগণের একজন সেবক মনে করি। প্রধানমন্ত্রীত্বটা হল একটা সুযোগ মানুষের জন্য কাজ করার। আমি সার্বক্ষণিক চেষ্টা করি সেই সুযোগটুকু কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের কতটা উন্নয়ন করা যায়। দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি কতটা করা যায়। অন্যায় অবিচারের হাত থেকে দেশের মানুষকে কীভাবে রক্ষা করা যায়? তিনি বলেন, আমাদের দেশেই শুধু নয়, সব দেশেই দেখা যায়- একটা দেশ যখন অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নে অগ্রযাত্রা শুরু করে তখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের টাউট বাটপার বা বিভিন্ন ধরনের লোক সৃষ্টি হয়। কিন্তু তাদের দমন করা এটা শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সম্ভব না। এটা সামাজিকভাবেও করতে হবে। জঙ্গী-সন্ত্রাস-মাদক ও দুর্নীতি দমনে জনসচেনতা সৃষ্টির বিষয়টি ইতোমধ্যে গুরুত্ব দিয়েছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী গোয়েন্দা সংস্থা সবাইকে কাজে লাগাচ্ছি। পাশাাপাশি আমাদের সমাজের বিভিন্ন মানুষ যেমন শিক্ষক, অভিভাবক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সবাইকে নিয়ে বিশিষ্টজন জনপ্রতিনিধি আছে তাদেরকে বলব- প্রত্যেকটা এলাকায় এলাকায় একটা কমিটি করা। যাতে এ ধরণের কোন অন্যায়কে কেউ যেন প্রশ্রয় না দেয়।

৭৪ সালের দুর্ভিক্ষটা ছিল পরিকল্পিত:
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষটা ছিল পরিকল্পিত। এই ঘটনার যিনি মূল হোতা ছিলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল জিয়াউর রহমান তাকে খাদ্যমন্ত্রী করেছিলেন। তার পুত্র বিএনপির এখনও বড় নেতা।

দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে:
মহিলা এমপি বেগম রওশন আরা মান্নানের এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার টানা তৃতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তাছাড়া দুর্নীতির প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারসহ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিশেষ পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে একটি সুশাসন ভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে বদ্ধপরিকর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি স্বাধীন ও স্ব-শাসিত সংস্থা। কমিশন নিরপেক্ষভাবে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত করে। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রমের ফলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে দুর্নীতির মাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। শেখ হাসিনা আরো বলেন, কমিশন দুর্নীতি প্রতিরোধে কর্মকৌশল প্রণয়ন করেছে। এ কর্মকৌশল এর আওতায় দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গণশুনানি আয়োজন করার পাশাপাশি সমাজের সৎ ও স্বচ্ছ ব্যক্তিদের নিয়ে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি; ‘স্কুল-কলেজের সততা সংঘ’ গঠন এবং ‘সততা স্টোর’ স্থাপন করা হয়েছে। এ সকল ইতিবাচক কার্যক্রমের ফলে সাধারণ জনগণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে। স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের আমলে দুর্নীতি প্রতিরোধে গ্রহণ করা যাবতীয় ব্যবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

যুগযুগান্তর পত্রিকা. নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 Jugjugantor24.com  
Design & Developed BY ThemesBazar.Com